Home বাংলাদেশ Weather ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নৌপথে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সতর্ক করলো কর্তৃপক্ষ

ঘন কুয়াশায় সড়ক ও নৌপথে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সতর্ক করলো কর্তৃপক্ষ

101
0

২০২৬ সালের শুরুতেই ঘন কুয়াশার কারণে দেশের সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন—মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী নীলা এবং শ্যালক নিশান—ঘটনাস্থলেই মারা যান। মিজানুর দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে যশোরে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একই সময়ে কুয়াশার কবলে পড়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ছয় যাত্রী।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, ঘন কুয়াশাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহম্মেদ খোকন বলেন, চালক ও যাত্রীদের সতর্কতা এবং সচেতনতা এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিরাপদ চালনার জন্য ফগ লাইট ব্যবহারের পাশাপাশি লো-বিম হেডলাইট, সীমিত গতি এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেন।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চারটি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ছিল বাসের পেছনে বাসের ধাক্কা, ত্রিমুখী সংঘর্ষ এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চালকদের অসাবধানতা, ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নৌপথেও কুয়াশার প্রভাব মারাত্মক। শনিবার বগুড়া থেকে জামালপুরগামী একটি বরযাত্রীবাহী নৌকা যমুনা নদীতে কুয়াশার কারণে মাঝপথে পথ হারিয়ে ফেলে, যেখানে ৪৭ জন আটকা পড়ে সারা রাত। একই ধরনের ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে, যেখানে একটি লঞ্চ শতাধিক যাত্রীসহ পদ্মা নদীর চরে আটকা পড়ে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল ৮ থেকে ১৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আগামী পাঁচ দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই অবস্থায় হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। হাসারা হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হক বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল না চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here