বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের উপস্থিতি কম থাকায় আগে জেনারেশন জেড বা জেন-জি (৩০ বছরের কম বয়সীরা) প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে অংশগ্রহণে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে সরকার পতনের পর, দেশের যুবসমাজ মনে করছে যে এবারের ভোট হবে ২০০৮ সালের পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম “জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি, তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সি জেনারেশন জেড দ্বারা পরিচালিত নতুন দল এনসিপি তাদের গণ আন্দোলনের ভিত্তিকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসেক হোসেন বলেন, “এটাই আমার প্রথম ভোট। তবে ভোট কাকে দেব, তা নিয়ে জেন-জিরা সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুকে প্রভাবিত হচ্ছে। অনেক ভিডিও তথ্য আমাদের সামনে আসছে যা আমাদের ভোটকে প্রভাবিত করবে।”
এদিকে, নির্বাচনের বিভিন্ন জরিপও ভোটারদের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে, যদিও এখনো অনেক ভোটার অনির্ধারিত। ভোটের ফলাফল শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের ভূমিকাও প্রভাবিত হবে। সদ্য বারডেম মেডিক্যাল থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. জিয়ায়ুল হাসান বলেন, “এবার আমার এবং অনেক বন্ধুর জন্য নির্বাচনে পারিবারিক সমর্থনের বাইরে গিয়ে নিজেদের বিবেক এবং চিন্তা-ভাবনা দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া সবচেয়ে বড় সফলতা।”
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী নিশাত তাসনীম বলেন, “আমরা অনেকেই জেন-জি দ্বারা পরিচালিত নতুন দল এনসিপির পক্ষে ছিলাম, তবে জামাতের সঙ্গে জোট গঠন করায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি মনে করি, নতুন ভোটাররা যাকে পছন্দ করবে, যাকে ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে। কারণ, বাংলাদেশে জেন-জি ভোটাররা মোট ভোটারের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তাই জেন-জি ভোট এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।










