বাংলাদেশে সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি তৈরি করেছে। Bangladesh Meteorological Department-এর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে গড়ে ৭৫ শতাংশের বেশি অতিরিক্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে Barishal Division-এ, যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৬৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই অতিবৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও কৃষি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মে মাসেও আবহাওয়া অনিশ্চিত থাকতে পারে। এ সময় এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয়টি কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকিও রয়েছে।
সাধারণত এপ্রিল মাস দেশের সবচেয়ে উষ্ণ সময় হলেও এবার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। গড় তাপমাত্রা কমেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা যায়নি। মাসের বিভিন্ন সময়ে স্বল্পমেয়াদি তাপপ্রবাহ হলেও বৃষ্টির কারণে তা দ্রুত কমে যায়।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তাপমাত্রা সহনীয় থাকবে। তবে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর স্বল্পমেয়াদি তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
হাওর এলাকায় বন্যার শঙ্কা
Flood Forecasting and Warning Centre জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যেই বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে Sylhet ও Sunamganj অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা হাওর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন নদীতেও পানির উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যা বা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
কৃষি খাতে বাড়ছে ঝুঁকি
এই অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। আগাম বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য ঝড়-বজ্রপাতের কারণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে সদ্য কাটা বা কাটার অপেক্ষায় থাকা ধান আবারও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে Chattogram-এ পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন পাহাড়ে হাজার হাজার অবৈধ বসতি রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।










