অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার Jim Chalmers প্রস্তাবিত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সংস্কার নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন “ন্যায্যতা” প্রতিষ্ঠার নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি লাভের ওপর বড় আঘাত হানতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে যে ৫০% CGT ছাড় রয়েছে, তা কমিয়ে ২৫% করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লাভের বড় অংশই করের আওতায় আসবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত (real) লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বর্তমান ব্যবস্থায়, ASX 200-এ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ থেকে গড়ে প্রায় ৯.২% রিটার্ন পাওয়া যায়। তবে কর ও মুদ্রাস্ফীতি বাদ দিলে প্রকৃত লাভ অনেক কমে যায়। হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান ৫০% ছাড়ের ক্ষেত্রেও কর ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রকৃত রিটার্ন প্রায় ২.৩৩%-এ নেমে আসে।
যদি নতুন প্রস্তাব কার্যকর হয় এবং ছাড় কমিয়ে ২৫% করা হয়, তাহলে এই প্রকৃত রিটার্ন আরও কমে প্রায় ১.৩%-এ নেমে যেতে পারে। এতে কার্যত বিনিয়োগকারীদের লাভের প্রায় ৮৫% পর্যন্ত কর ও অন্যান্য কারণে হারিয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের করনীতির ফলে বিনিয়োগে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তারা যুক্তি দেন, বিনিয়োগকারীরা যদি দেখেন যে ঝুঁকি নেওয়ার পরও প্রকৃত লাভ খুব কম, তাহলে তারা বিনিয়োগ থেকে সরে গিয়ে ভোগব্যয়ে বেশি ঝুঁকতে পারেন—যেমন ভ্রমণ, গাড়ি বা অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি।
এর ফলে অর্থনীতিতে “capital shallowing” বা বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ ব্যবসা, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মজুরি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে উল্লেখ্য, এই মতামতটি একটি বিশ্লেষণভিত্তিক সমালোচনা, এবং সরকারের পক্ষ থেকে এই সংস্কারকে “আন্তঃপ্রজন্মের ন্যায্যতা” প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










