ASEAN সতর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আঞ্চলিক বৃদ্ধির জন্য গুরুতর হুমকি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির (ASEAN) অর্থনৈতিক মন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন যে, চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আঞ্চলিক বৃদ্ধির জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলগুলিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে যা এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
একটি যৌথ বিবৃতিতে, মন্ত্রীরা প্রধান সামুদ্রিক রুটগুলিতে অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর, যেখানে বৈশ্বিক তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়। এসব রপ্তানির একটি বড় অংশ এশিয়ার উদ্দেশে চলে যায়, ফলে এশিয়া এই ব্যাঘাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে।
যুদ্ধটি ইতিমধ্যে শক্তির বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা তেল এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে, পাশাপাশি শিপিং, বীমা এবং লজিস্টিক খরচে ধারালো বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এই বাড়তি খরচ ASEAN অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং গৃহস্থালি বাজেটে চাপ তৈরি করছে।
মন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই ব্যাঘাতগুলি চলতে থাকে, তবে উচ্চতর শক্তির দাম এবং বৃদ্ধি পায় এমন বাণিজ্য খরচের সম্মিলিত প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে—এটি বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্য নির্ভরশীল অঞ্চলের একটি।
অর্থনৈতিক চাপ বিশেষভাবে নিম্ন আয়ের গৃহস্থালির এবং ছোট ব্যবসাগুলির ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে, কারণ বেড়ে যাওয়া খরচ খাদ্যের দাম, সার সরবরাহ এবং অপরিহার্য পণ্যের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাই অঞ্চল জুড়ে সরকারগুলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে চাপের মধ্যে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ASEAN নেতারা বাণিজ্য প্রবাহ খোলা রাখার এবং খাবার ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর অনাবশ্যক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা এই সংকটের সময় সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে স্থিতিশীল প্রবাহ নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কারূপে কাজ করছে, এবং ASEAN—যেহেতু এটি আমদানি করা জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল—একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।










