২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কয়েক বছর ধরে পতনের পর ফের বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক‑এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১৭৭ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের ১২৭ কোটি ৪ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি ডলার বেশি। মূলত পুনর্বিনিয়োগ এবং আন্তকোম্পানি ঋণের কারণে এ লাফ দেখা গেছে।
একটি বড় বহুজাতিক ব্যাংক ২০২৫ সালে তাদের মুনাফা বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে পাঠিয়ে না নিয়ে এখানে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আবার সুদের হার বেশি থাকায় অনেক বিদেশি কোম্পানি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তা বিনিয়োগ হিসেব দেখাচ্ছে, যা এফডিআই‑তে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড‑র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এফডিআই ছিল ৩৬১ কোটি ডলারের বেশি; এরপর করোনাকালসহ বিভিন্ন কারণে তা কমে আসছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে ২০২৪ সালে ১২৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫‑এ পতনের ধারা থামিয়ে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৃদ্ধিতে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি — বরং পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তকোম্পানি ঋণ বেশি ভূমিকা রেখেছে — ফলে প্রকৃত অর্থে নতুন বিনিয়োগ বাড়েনি। বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হলে লজিস্টিক, অবকাঠামো, গ্যাস‑বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নীতিগত স্থিরতা নিশ্চিত করা জরুরি।










