Home খেলা অ্যাস্টন ভিলার দাপটে লিভারপুলের বড় ধাক্কা, টপ-ফাইভ লড়াইয়ে চরম চাপ

অ্যাস্টন ভিলার দাপটে লিভারপুলের বড় ধাক্কা, টপ-ফাইভ লড়াইয়ে চরম চাপ

24
0

Liverpool F.C.-এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করার স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেল Aston Villa F.C.-এর বিপক্ষে ৪-২ গোলের হারে।

ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার Ollie Watkins। তার জোড়া গোলের সঙ্গে গোল করেন Morgan Rogers ও John McGinn।

এই জয়ের ফলে কোচ Unai Emery-এর দল টপ-ফাইভ নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে Arne Slot-এর লিভারপুল এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। শেষ ম্যাচের আগে তাদের অপেক্ষা করতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলাফলের দিকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে অ্যাস্টন ভিলা কর্নার থেকে দারুণ পরিকল্পিত আক্রমণে এগিয়ে যায়। বাম দিক থেকে Lucas Digne বল বাড়িয়ে দেন রজার্সকে, যিনি বক্সের ভেতরে অসাধারণ ফিনিশে গোল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিভারপুল সমতায় ফেরে। অধিনায়ক Virgil van Dijk কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরান দলকে।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি।

লিভারপুল মিডফিল্ডার Dominik Szoboszlai-এর ভুলের সুযোগ নিয়ে ওয়াটকিন্সের গোল ভিলাকে আবার এগিয়ে দেয়।

এরপর ওয়াটকিন্স নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন। গোলকিপার Giorgi Mamardashvili প্রথমে শট ঠেকালেও ফিরতি বলে ওয়াটকিন্স সহজ ফিনিশ করেন।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ম্যাকগিন দূরপাল্লার অসাধারণ শটে ভিলার চতুর্থ গোল করেন।

শেষদিকে আবারও ভ্যান ডাইক গোল করলেও সেটি শুধু ব্যবধান কমিয়েছে।


লিভারপুলের বড় দুর্বলতা: সেট-পিস রক্ষা

এই মৌসুমে সেট-পিস থেকে গোল খাওয়ার প্রবণতা আবারও ভয়াবহভাবে প্রকাশ পেয়েছে লিভারপুলের ক্ষেত্রে।

প্রথম গোলের সময় রজার্সকে পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কেউ তাকে দ্রুত চেপে ধরতে পারেনি, ফলে তিনি সহজেই শট নিয়ে গোল করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো মৌসুম জুড়েই লিভারপুল ডেড-বল পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত নিষ্ক্রিয় ছিল।

প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে সেট-পিস থেকে এটি ছিল লিভারপুলের ১৯তম গোল হজম।


ওয়াটকিন্স কি লাল কার্ড এড়িয়েছেন?

ম্যাচে ওয়াটকিন্সের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত, তবে বিতর্কও তৈরি হয়েছে তাকে ঘিরে।

প্রথমার্ধে অফসাইডের পর বাঁশি বাজার পরেও শট নেওয়ায় তিনি হলুদ কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয়ার্ধে একই ঘটনা ঘটলেও এবার রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেননি।

অনেক লিভারপুল সমর্থক মনে করছেন, ওয়াটকিন্স মাঠে থাকার সৌভাগ্য পেয়েছিলেন এবং সেটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।


এখন লিভারপুলের সামনে কী সমীকরণ?

এই হারের ফলে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার কাজ জটিল হয়ে গেছে।

তারা এখন টেবিলের পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে।

এখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে AFC Bournemouth এবং Brighton & Hove Albion F.C.-এর ফলাফলের দিকে।

শেষ ম্যাচে Brentford F.C.-এর বিপক্ষে জয় পেলে অনেকটাই নিরাপদ থাকবে তারা।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে দলটি।


অ্যাস্টন ভিলার অসাধারণ সাফল্য

অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা আবারও ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে দলটি ছিল হতাশাজনক অবস্থায়। প্রথম পাঁচ ম্যাচে জয় ছিল না।

কিন্তু এমেরির অধীনে তারা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

শেষ ১৩ লিগ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতে জয় পেয়ে তারা টপ-ফাইভে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই এখন অ্যাস্টন ভিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here