Home বাংলাদেশ National যমুনার দিকে নজর পুরো দেশের

যমুনার দিকে নজর পুরো দেশের

159
0

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছার খবর প্রকাশের পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিষয়টি নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের পর এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস পদত্যাগের চিন্তার কথা জানান। এ কথা জানাজানির পর থেকেই রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মাঝেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান সংকটময় সময়ে অধ্যাপক ইউনূসের সরে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক দলই চায় না বলে জানা গেছে। তবে দলগুলো জানতে চায়—সংসদ নির্বাচন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং অতীত সহিংসতার জন্য আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী।

এই প্রেক্ষাপটে আগামী শনিবার (২৪ মে) বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় তাঁর বাসভবনে বৈঠক করবে। তাই এখন দেশের নজর যমুনার দিকেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তাদের বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমির সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতি। এ লক্ষ্যে আজ রাতেই তারা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে দেখা করবেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আগে উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর পদত্যাগ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা তাঁকে উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজই সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং বৈঠকের পর ড. ইউনূস নির্বাচনী রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কিছু দল জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে এবং সংকট সমাধানে সর্বদলীয় বৈঠকের পরামর্শও দিয়েছে।

বিএনপি তার শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। তাদের মতে, এখন ইউনূসের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং আওয়ামী লীগ আন্দোলনে নামতে পারে। তাই ইউনূসের উচিত একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা, যা সংকট নিরসনে সহায়ক হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, দিল্লি থেকে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করাই লক্ষ্য।

গণসংহতি আন্দোলনও এক বিবৃতিতে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম রাজনৈতিক দলগুলোকে সংঘর্ষ নয়, সমঝোতার পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে এবি পার্টি জানিয়েছে, এখন অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগ নয়, বরং আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সংকট সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here