ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ ইসরায়েলের বর্তমান অভিযান লক্ষ্য না হলেও, এটি সম্ভব হতে পারে কারণ ইরানি সরকার অত্যন্ত দুর্বল।
নেতানিয়াহুর মতে, ইরানি জনগণ তাদের শাসকদের সমর্থন করে না এবং ৮০% জনগণ বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে। তিনি আরো জানান, পার্সি জাতি ও ইহুদি জাতির মধ্যে একটি প্রাচীন বন্ধুত্ব রয়েছে, এবং এই পরিস্থিতিতে যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা ইরানি জনগণেরই সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, ইসরায়েল এতে হস্তক্ষেপ না করলেও, ইরানি জনগণের নিজস্ব গণবিক্ষোভ বা বিদ্রোহ হবে।
এদিকে, যখন নেতানিয়াহু ইরানি জনগণের পক্ষ থেকে বিরোধী গণবিক্ষোভের সম্ভাবনা দেখছেন, তখন ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, শুক্রবার ও শনিবার ইসরায়েলি হামলায় ইরানে কমপক্ষে ১২৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৯০০ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন নারী এবং বেশ কিছু শিশু রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
রবিবার, ইসরায়েল নতুন করে আকাশপথে একাধিক হামলা চালায় তেহরানের বিভিন্ন এলাকায়। হামলাগুলো ছিল জনবহুল বেসামরিক এলাকায়, যেমন তাজরিশ স্কয়ার, কুদস স্কয়ার, শরিয়াতি অ্যাভিনিউ, ভেলিয়াসর স্কয়ার, এবং সোহরাভার্দি স্ট্রিট।
তাজরিশ এলাকায় একটি বড় শপিং সেন্টার এবং ভেলিয়াসর স্ট্রিট রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। কুদস স্কয়ারে হামলায় শোহাদা হাসপাতালের মাত্র ৫০ মিটার কাছাকাছি বোমা পড়েছিল, যা উত্তর তেহরানের একটি প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র।
রবিবার বিকেলে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি দেখা গেছে। তেহরানের সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, বিস্ফোরণের কারণে শহরের ভবনগুলো কেঁপে উঠেছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একাধিক আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে এবং ধোঁয়া দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে এবং এটি দ্বন্দ্বকে আরো কঠিন রূপ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।










