ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে টানা চার দিন ধরে চলা পাল্টাপালটি হামলার পর, ইরানে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং পরমাণু বিজ্ঞানীরা রয়েছেন। ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে এমনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা এর আগে কখনো দেখেনি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব ও হাইফার মতো বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তবে, উভয় দেশের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো পরিষ্কার নয়, কারণ পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির এবং তথ্য প্রচারণা চলছে।
ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী দেশ। তাদের হাতে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে কিছু অত্যাধুনিক এবং আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলিদের জন্য এক নতুন এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হতে পারে, কারণ তারা এতদিন গাজা, লেবানন বা ইয়েমেন থেকে সীমিত শক্তির ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হয়েছিল।
ইরান ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে “হাজ কাসেম” নামক এক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা আগের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ছিল। তবে, এই ধরনের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত পরিমাণে থাকা সত্ত্বেও, ইরান যথাযথ কৌশল ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তজাচি হানেগবি স্বীকার করেছেন যে, ইরানের হাতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। তবে, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাচ্ছে, যার মাধ্যমে কিছু হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িত নয়, তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি বা স্বার্থে আঘাত হানে, তবে এর পরিণতি ভীষণ হবে।
এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে চায়। ইরান কখনোই যুদ্ধকে আরো বড় আকারে যেতে দিতে চায় না, কারণ এতে তাদের অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইরান জানায়, যদি ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে, তারা তাদের প্রতিক্রিয়া বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, বিশেষত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর।
ইরানের হাতে এখনো শক্তি রয়েছে, তবে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই জানে, একে অপরকে মোকাবিলা করা সহজ নয়, এবং এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে তা সারা মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।










