আ হ ম মুস্তফা কামাল, যিনি লোটাস কামাল নামে পরিচিত, ক্রীড়াপ্রেমী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাবেক সভাপতি ছিলেন। কামাল পরিবার বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কিনেছিল। সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেট অলরাউন্ডারদের পছন্দ করতেন তিনি। তবে তার ব্যক্তিগত জীবনেও অলরাউন্ডারের পরিচয় রয়েছে, তবে সেটি দুর্নীতিতে। পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারি, আদম ব্যবসা, টেন্ডার কমিশন, কমিটি বাণিজ্য—দুর্নীতির প্রায় সব শাখাতেই তিনি ছিলেন সক্রিয়।
লোটাস কামালের দুর্নীতিই ছিল তার মূল লক্ষ্য। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে তিনি পাঁচবার কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়েই বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় পঙ্গুত্ব বরণ করে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ‘খেলাপি ঋণ আর একটাও বাড়তে দেওয়া হবে না’, কিন্তু তার মন্ত্রিত্বকালে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ভাঙে। ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের মূল কুশীলব ছিলেন তিনি।
এস আলম গ্রুপের সাথে গভীর সম্পর্ক রেখে তিনি নিজের এবং স্বজনদের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করেছেন। সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগ, ঋণ প্রদানসহ সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি চরমে পৌঁছায় তার হাতে।
রাজনীতিতে প্রবেশের পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হলেও ২০০১ সালে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৯ সালে বিসিবি সভাপতি হন এবং ২০১৪ সালে আইসিসির সভাপতির পদে নির্বাচিত হন।
তার নির্বাচনী হলফনামায় স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ নিজের চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এছাড়া তার নানান অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বহু সম্পদ অর্জন করা হয়েছে, যা তিনি বিভিন্ন প্রজেক্ট, টেন্ডার ও সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে করেছেন।
তারই নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ প্রকল্পে তার ভাই গোলাম সারোয়ার মাফিয়াগিরি চালিয়ে জমি অধিগ্রহণে বড় ধরনের দুর্নীতি করেছেন।
এভাবে লোটাস কামাল ব্যবসা, রাজনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা। সুতরাং, তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দারুণভাবে দুর্নীতির ‘অলরাউন্ডার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।










