সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর থেকে বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমার ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়েছে, কারণ শত্রুদের হামলা থেকে বাঁচতে সামরিক স্থাপনাগুলো এখন বেশি করে মাটির নিচে তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা, জিবিইউ-৫৭/এ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর, সম্প্রতি ইরানে প্রথম ব্যবহার করা হয়। এটি ১৩ হাজার কেজি ওজনের বোমা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক রয়েছে। ২০০ ফুট চওড়া কংক্রিট অথবা ১৩০ ফুট চওড়া পাথরের স্তর অনায়াসে ভেদ করতে সক্ষম এই বোমা। তবে ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপর হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয় উদযাপন করলেও, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ফোর্দো হয়তো ধ্বংস হয়নি।
এছাড়া, এই বোমাটি বহন করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করতে হয়েছে, যেটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে সহজে হামলা চালানো সম্ভব নয়। এই কারণেই ভারত এখন নিজস্ব বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) তাদের অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। এটি মার্কিন বোমার চেয়ে তিনগুণ বেশি বিধ্বংসী হতে পারে।
অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি হাইপারসনিক গতিতে মাক-৮ থেকে মাক-২০ পর্যন্ত ছুটতে সক্ষম, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাঁচবে। এর ওয়ারহেড ৮০ থেকে ১০০ মিটার পুরু কংক্রিট বা মাটি ভেদ করে শত্রুদের কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং পারমাণবিক মজুদসহ অন্যান্য সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ কাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে ডিজাইন করা হচ্ছে।










