Home বাংলাদেশ Weather হাতিয়ায় ভাঙন পরিস্থিতি আরও সংকটময় হচ্ছে, এখন টেকসই সমাধান অপরিহার্য।

হাতিয়ায় ভাঙন পরিস্থিতি আরও সংকটময় হচ্ছে, এখন টেকসই সমাধান অপরিহার্য।

197
0

হাতিয়ায় নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলেছে, জরুরি স্থায়ী বাঁধ দরকার: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীতে বিলীন হচ্ছে। এই ভয়াবহতা রোধে তিনি দ্রুত স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণের আহ্বান জানান।

গত রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে হরণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয়রা এসময় ব্লক বাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, “হাতিয়ার উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি দ্রুত টেকসই ব্লক বাঁধ না দেয়া হয়, তাহলে অচিরেই পুরো অঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে। আমরা বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। হাতিয়াবাসীর স্বার্থে আমি লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, হান্নান মাসউদ নিজ উদ্যোগে নদী তীরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে কার্যকর ফল মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী মাছঘাট ভাঙনের মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময় ভাঙন আরও তীব্র হয়ে উঠছে—অনেকের বসতঘর ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর খামার ঝুঁকিতে আছে।

চানন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “প্রতি জোয়ারে একটু একটু করে ভাঙে। কিন্তু এবার মাত্র এক সপ্তাহেই আমার ২০ শতাংশ জমি নদীতে চলে গেছে। এখন ঘর নিয়ে কোথায় যাব, সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।” পানি উন্নয়ন বোর্ড কেবল সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে কিছুটা কাজ করলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়।

প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হাতিয়ায় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বসতবাড়ি, রান্নাঘর, আঙিনা, সড়ক ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here