“মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া করতে হচ্ছে” — চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচিত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তাঁকে দ্রুততার সঙ্গে এই বিচার কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
আজ শনিবার গুলশানের একটি হোটেলে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, “যতটা নিখুঁতভাবে কাজটা করা প্রয়োজন ছিল, ততটা করা যাচ্ছে না, কারণ আমাদের অনেক বেশি তাড়াহুড়া করতে হচ্ছে।”
তাজুল ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নতুন সরকার দায়িত্বে আসবে। কিন্তু সে সরকার যদি এই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে না নেয়, সেই আশঙ্কায় তাঁরা সময়ের আগেই বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “আমরা ধরে নিচ্ছি নতুন সরকার এলে তারা এই প্রসিকিউশন টিম ও বিচারব্যবস্থাকে এগিয়ে নাও নিতে পারে। তাই আমাদের হাতে যতটা সময় আছে, তার মধ্যেই যতদূর সম্ভব এগিয়ে যেতে হচ্ছে।”
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল না করতে পারলে তা হবে একটি বড় ব্যর্থতা।
তিনি আরও বলেন, “১৮০০টির বেশি গুমের ঘটনা তদন্ত করা এবং সেসবের শাখা–প্রশাখা বিশ্লেষণ করে চার্জশিট প্রস্তুত করা কয়েক মাসে সম্ভব নয়। তবুও আমাদের এটা করতে হচ্ছে, কারণ আমরা জানি না পরবর্তী সরকার কতটা দায়িত্বশীল হবে।”
তাজুল ইসলাম মনে করেন, এসব অপরাধের বিচার না হলে তা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তাঁদের বুঝতে হবে বাংলাদেশে কী ঘটেছে এবং বিচার না হলে এ সব ঘটনা আবার ফিরে আসতে পারে। এটা তাঁদের জানানো অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধীর পরিচয় হোক সে যত বড় পদেই থাকুক, আইনের দৃষ্টিতে সে একজন অপরাধী। কারও পদ বা প্রভাব তাকে দায়মুক্ত করতে পারে না।
চিফ প্রসিকিউটর সতর্ক করে বলেন, “যাঁরা আজ অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেরাও একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন। এ ধরনের রক্ষা প্রচেষ্টাও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
এই গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান।










