Home International কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

27
0

নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন জনপ্রতিনিধি মেয়র হিসেবে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। এর আগে শহরটির অধিকাংশ মেয়র বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিলেও, আইনত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সাধারণত বাইবেল ব্যবহার করে শপথ নিয়ে থাকেন। মামদানি যেহেতু সরাসরি জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ভোটাররা জেনেই তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাই তাঁর এই পদক্ষেপ বহুসাংস্কৃতিক সমাজে উদারতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন—যদি ঢাকার মেয়র হিসেবে কোনো চাকমা নারী শপথ নিতেন তাঁদের ধর্মীয় গ্রন্থ হাতে, তবে কি বাংলাদেশি সমাজ একইভাবে গর্বিত হতো? দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সমাজ এখনো সেখানকার মতো বহুসংস্কৃতির মর্যাদা দিতে শেখেনি।

জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের ওল্ড সিটি হলের একটি পুরনো সাবওয়ে স্টেশনে শপথ গ্রহণ করেন। শপথকালীন তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী রামা দুওয়াজি, যিনি পবিত্র কোরআনের কপিটি হাতে ধরে রেখেছিলেন। রামা সিরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম হলেও, তিনি প্রচলিত ধর্মীয় পোশাক পরেননি। শপথ বাক্য পাঠ করান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস, যিনি খ্রিস্টান ধর্মের প্রোটেস্ট্যান্ট ঘরানার অনুসারী। শপথ শেষে মামদানি তাঁকে আলিঙ্গন করেন—একটি সম্পূর্ণ প্রগতিশীল ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা।

জোহরানের মা মিরা নায়ার একজন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বাবা মাহমুদ মামদানি একজন খ্যাতিমান অধ্যাপক। মিরা হিন্দু ধর্মে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন বহু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের এক অনন্য মিশ্রণ। সেই সূত্রেই জোহরান বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের এক বাস্তব রূপ।

জোহরান কেবল কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেননি, তিনি বেছে নিয়েছেন ইতিহাসের একটি বিশেষ প্রতীক। তিনি শপথ গ্রহণ করেন নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা ২০০ বছরের পুরনো একটি ক্ষুদ্রাকৃতির কোরআন ছুঁয়ে, যা একসময় ইতিহাসবিদ আর্তুরো শমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল। পাশাপাশি তিনি ব্যবহার করেছেন তাঁর দাদার কোরআনের কপিও। এই প্রতীকী ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি শপথে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও উত্তরাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে নাগরিকের ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান করার সাংবিধানিক রীতি রয়েছে। এখানে শপথের মূল ভিত্তি হলো সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, ধর্মগ্রন্থ নয়। কোরআন, বাইবেল, তোরাহ—যে কোনো গ্রন্থ হতে পারে একটি ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির মাধ্যম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেয়র মামদানি তাঁর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংবিধান, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন কিনা। যদি তিনি তা করেন, তাহলে তাঁর এই শপথ সত্যিকার অর্থে পূর্ণতা পাবে। ধর্মীয় প্রতীক তখন হয়ে উঠবে একটি উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ডের প্রতীক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here