স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পদে পরিবর্তনের পর শুরু হয়েছে বড় পরিসরের প্রশাসনিক রদবদল। ইতোমধ্যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার একান্ত সচিবসহ মোট ১৩ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। সূত্র বলছে, আরও কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে, আগের উপদেষ্টার সময় গ্রহণ করা কিছু প্রকল্পেরও নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তিন মাস পরে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আসিফ মাহমুদ গত ১০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগ করেন। পরদিনই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আদিলুর রহমান খান, যিনি ইতোমধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা বদলির আওতায় পড়েছেন, যা প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এই রদবদলের আওতায় যারা বদলি হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন উপসচিব নুরে আলম ও মো. শামীম বেপারী, যাঁদের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তাঁরা তা পালন করেছেন। ২৪ ডিসেম্বর একাধিক যুগ্ম সচিবকেও অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়, এর মধ্যে ছিলেন আবুল হাসান (পূর্বতন পিএস), নাজমুল হুদা শামীম, ওয়াহেদুর রহমান, আল-মামুন, মনিরুল ইসলাম, আল-আমিন সরকার ও ফজলে আজিম। এছাড়া উপসচিব পর্যায়ে আকবর হোসেন, ইবাদত হোসেন, শাহীনুর আলম এবং রবিউল ইসলামকেও বদলি করা হয়।
অন্যদিকে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচজন কর্মকর্তাকে নতুন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব আকনুর রহমান, যুগ্ম সচিব রোকসানা খান, হোসনা আফরোজা, উপসচিব নজরুল ইসলাম ও আশরাফুল আফসার।
বদলি নিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উপদেষ্টা নিজের মতো করে মন্ত্রণালয় সাজাতে চাইছেন, যেমনটা করেছিলেন তাঁর পূর্বসূরি। এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক একটি অংশ হলেও, নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে থেকে অভিযোগ থাকায় তাদের স্থানান্তর নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে ছিলেন, তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে বদলি করা হবে।
এদিকে, আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের পর তাঁর নিজ জেলা কুমিল্লাভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রকল্পও পরিকল্পনা কমিশন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, মুরাদনগরের আর্চি ও বুড়ি নদী খননের ৪৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এবং বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার নদী ও খাল পুনঃখননের আরও একটি প্রকল্প যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বাতিল করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এসব প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, জনবল নির্ধারণ এবং ডকুমেন্টেশন যথাযথ হয়নি। এসব প্রকল্প একীভূত করে নতুনভাবে সমীক্ষা করে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এমনকি কুমিল্লার সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ২,৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এখনো একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “এই প্রকল্পটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, একনেকে অনুমোদন পায়নি।” পুরো পরিস্থিতি থেকেই বোঝা যায়, উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর শুধু প্রশাসনিক নয়, প্রকল্পভিত্তিক নীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।









