মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে, তাঁর একসময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) রাজধানী কারাকাসে অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনে ৫৬ বছর বয়সী দেলসি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি, একজন যুদ্ধবন্দী।” তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
শপথ নেওয়ার পর দেলসি রদ্রিগেজ এই গ্রেপ্তারকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনার মাঝে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি।” তিনি দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানে মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বাবা-মায়ের ফিরে আসা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সেদিনই পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যারা মাদুরো ও দেলসির সমর্থনে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাদুরোর আটকের ঘটনায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ দূত স্যামুয়েল মনকাদা এটিকে ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেন, বিশাল জ্বালানি সম্পদের দেশটিকে একজন ‘পলাতক অপরাধীর’ হাতে রাখা যায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ভেনেজুয়েলায় একটি “সুষ্ঠু পরিবর্তন” না আসা পর্যন্ত দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে। তিনি দেলসি রদ্রিগেজকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি তিনি মার্কিন নীতির বাইরে যান, তবে তাঁকে মাদুরোর চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তবে দেলসি কিছুটা নমনীয় অবস্থান থেকে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে ইচ্ছুক বলেও জানান।
গত শনিবার সকালে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘বড় পরিসরের’ সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। আটকের প্রায় সাত ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে মাদুরোর চোখ বাঁধা, হাতে হাতকড়া এবং পরনে ধূসর ট্রাউজার পরা অবস্থায় দেখা যায়।
পরদিন সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয় মাদুরো দম্পতিকে। শুনানিতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং বলেন, তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৭ মার্চ নির্ধারণ করেছে।









