ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ও জুলাই বিপ্লবী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম পলাতক শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিবির প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখিত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ হত্যার পরপরই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ফয়সাল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। হাদি সরকার এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচক ছিলেন। তার এই অবস্থান অনেকের বিরাগভাজন করে তোলে। অভিযুক্ত ফয়সালের সাম্প্রতিক একটি ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভিডিও বার্তা থাকলেও তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানেই মারা যান।
হাদির সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এই হামলার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং তাদের মদদপুষ্ট মহল। তারা দাবি করেন, হাদির মত ভিন্নমতাবলম্বী একজন রাজনীতিককে টার্গেট করে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে, ২০ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেন, যা সরাসরি হত্যার অভিযোগ প্রমাণে ব্যবহৃত হয়।









