Home Economics বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোতে ব্যাংক খাতে নজরদারি জোরদার

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোতে ব্যাংক খাতে নজরদারি জোরদার

77
0

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে তদারকির পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। প্রচলিত পরিদর্শন ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন থেকে ‘রিস্ক বেইজড সুপারভিশন’ বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামো চালু করা হয়েছে, যার আওতায় প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে আর আগের মতো সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমান নজরদারি থাকবে না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি, কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তদারকির গভীরতা নির্ধারণ করা হবে।

নতুন এই কাঠামোর অধীনে ব্যাংকগুলোর সরবরাহ করা ডেটা ও আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হবে, যাতে বাস্তব অবস্থার নির্ভুল মূল্যায়ন সম্ভব হয়। এর ফলে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ বা পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া যেতে পারে। এমনকি ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ প্রয়োগের কথাও ভাবা হচ্ছে।

এই কাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি-সম্পর্কিত ১৩টি বিভাগ পুনর্গঠন করে এখন ১৭টি বিভাগে রূপান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ব্যাংক সুপারভিশন’ শাখার অধীনে ১২টি নতুন বিভাগ গঠন করা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকের কার্যক্রমের ওপর বিশেষায়িত নজরদারি রাখবে। নতুন ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল রবিবার কার্যকর হলেও এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ১ জানুয়ারি থেকে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত শোক পালনের কারণে তা বিলম্বিত হয়।

তদারকি কাঠামোর উন্নয়নের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত পাঁচটি বিভাগও গঠন করা হয়েছে, যা ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিশেষ ক্ষেত্রগুলো যেমন—কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণ, পেমেন্ট সিস্টেমের নজরদারি, এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে কাজ করবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য গঠিত নতুন বিভাগটি বিএফআইইউ মডেলে পরিচালিত হবে এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here