বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, অতীতে বারবার জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যারা ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাদের সেই রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং সর্বহারাদের দালালচক্রের রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী গণসমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ফুয়াদ বলেন, বাবুগঞ্জ–মুলাদীকে চাঁদাবাজমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করা হবে, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কাউকে একটাকা চাঁদাও দিতে হবে না। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলেন, “আইনের পথে ফিরে আসুন, নইলে যৌথবাহিনীর গুলির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকুন। তালিকা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ভোট নয়—এটি লাল-সবুজের পতাকা রক্ষার লড়াই, বাবুগঞ্জকে সন্ত্রাসমুক্ত–মাদকমুক্ত করার নির্বাচন। মীরগঞ্জ ঘাটকে দালালমুক্ত করা, কাঁচা রাস্তা পাকা করা, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নয়ন, বাজার থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল এবং টাউটারি–প্রতারকচক্রকে নির্মূল করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট জালিয়াতি বা অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের নাম–ঠিকানা–ছবি সবই গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। ১২ তারিখে ঝামেলা করতে এলে র্যাব, পুলিশ ও যৌথবাহিনীর গুলির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নিরাপদ থাকতে চাইলে নিজ বাড়িতে অবস্থান করুন।”
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান। ফুয়াদ জানান, গত এক বছর তিনি কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন এবং ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের ৩০ শতাংশ বাজেট বরিশালে এনে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য তাঁর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং পুরোনো রাজনৈতিক ধারা পরিহার করতে হবে। তিনি ঈগল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানের মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তাঁর নেতৃত্বে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সালাম মাঝিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










