রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আজ সোমবার ঢাকা–১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমালোচনা নয়—বরং দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্পষ্ট লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমেই জাতির উপকার সম্ভব।
ঢাকা–১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী রবিউল আলম রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো আমরাও বিশ্বাস করি—বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। তিনি বলেন, “সব প্রতিকূলতার মাঝেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষই তাঁর পরিবার। তাই আসুন—আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, পরিশ্রম করি, দেশকে আবার নতুনভাবে গড়ে তুলি।”
তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়—যখন একটি দল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনা দেয়, তখনই জনগণের উপকার হয়।
বিএনপির প্রতিশ্রুত নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন—
- কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজে সরকারি সহায়তা ও সুবিধা পেতে পারে।
- মায়েদের ও গৃহিণীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত হবে।
- স্কুলশিক্ষকদের কম্পিউটার প্রদান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা বিস্তারের ঘোষণা দেন তিনি।
- স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
- প্রবাসীদের কষ্ট, আর্থিক ঝুঁকি ও নিরাপত্তা সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে তাদের সেবাপ্রাপ্তি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নেতাদের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ–মাদ্রাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করবে বিএনপি সরকার।
তিনি অতীত ইতিহাস স্মরণ করে আরও বলেন, জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থাও করেছিলেন খালেদা জিয়া।
“এই ইতিহাসই প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনায় সক্ষম,” বলেন তারেক রহমান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে তিনি বলেন, “এ দিন শুধু ভোটের দিন নয়; এটি সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় দেশের মানুষ ১৬ বছর ধরে আছে।”










