Home বাংলাদেশ National ‘এখন থেকেই ভোট রক্ষার পাহারায় নামতে হবে’—জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

‘এখন থেকেই ভোট রক্ষার পাহারায় নামতে হবে’—জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

49
0

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোট সুরক্ষায় এখন থেকেই সতর্ক পাহারাদারি শুরু করতে হবে। তাঁর ভাষায়, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা নির্বাচনী ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, “বিজয়ের মালা গলায় তুলে দেওয়ার পরই ঘরে ফিরবেন।”

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা–১৩ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সভার সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মাহফুজুল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

📌 “জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আমরা একত্রিত”—জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা নিয়েই ১১ দল একজোট হয়েছে। তিনি জানান, এই ঐক্য দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ।
তিনি বলেন, “জনগণ যখন এক হয়, বিজয় অবশ্যম্ভাবী।”

📵 ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের তীব্র সমালোচনা

ইসির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন—

  • জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন ইন্টারনেট বন্ধ করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল,
  • এবারও একই কায়দায় মোবাইল, ক্যামেরা ও রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের সেই অপকর্ম জনগণ মেনে নেয়নি, এবারও নেবে না।”

তিনি নাহিদ ইসলামের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, “আজকের মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, আগামীকাল নির্বাচন নয়—অসৎ সিদ্ধান্ত প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে।”

⚠️ “এক পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন হাইজ্যাকের চেষ্টা করছে”

শফিকুর রহমান বলেন,

  • ভোটকেন্দ্র দখল,
  • সশস্ত্র সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি,
  • জালিয়াতির প্রস্তুতি
    এখনই শুরু হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা এখনো সজাগ—ভোট ছিনতাইয়ের কোনো প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।”

🏛️ ঢাকা–১৩: ‘চাঁদাবাজি আর মাদকব্যবসায় জর্জরিত এলাকা’

তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রবাজির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—“বিভ্রান্ত তরুণদের পুনর্বাসন করে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

👥 “আমরা কোনো দল বা পরিবারের পক্ষ নয়—১৮ কোটি মানুষের পক্ষে লড়ছি”

জামায়াতের আমির বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য দলীয় নয়, জাতীয়।
তিনি বলেন:

  • ক্ষমতায় গেলে দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার গঠিত হবে।
  • দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিজয়ই তাদের জন্য ‘মহাবিজয়’।

তিনি অভিযোগ করেন যে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থে ভোটযুদ্ধকে বিকৃত করতে চাইছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

🎓 জুলাই আকাঙ্ক্ষা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে

তিনি দাবি করেন, দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণরা ইতোমধ্যেই ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষার’ পক্ষে রায় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “১২ তারিখেও দেশ একই দৃশ্য দেখবে।”

⚠️ আমলাদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা

সরকারি আমলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন—

  • ‘দলবাজির সময় শেষ’,
  • কারো জন্য ভোট পরিবর্তনের দায়িত্ব তাঁদের নয়,
  • অতীতে অপরাধ ক্ষমা পেলেও এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি যোগ করেন, “দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিতে কেউ দুঃসাহস দেখালে তা প্রতিহত করা হবে।”

🤝 ধর্ম–বর্ণ–লিঙ্গ নির্বিশেষে সমতার প্রতিশ্রুতি

তিনি বলেন, দেশকে আর কখনো বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য—
“সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত, সাম্যবাদী বাংলাদেশই আমাদের অঙ্গীকার।”

🚲 ঢাকা–১৩–এ ‘রিকশা’ প্রতীকের মাহাত্ম্য

তিনি জানান, রিকশা প্রতীকই ১১ দলের যৌথ প্রতীক—

  • জনগণের,
  • তরুণ প্রজন্মের,
  • নারী-পুরুষ সবার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

🏆 মন্ত্রিত্বের ঘোষণা: মামুনুল হককে ‘জাতীয় মন্ত্রী’ হিসেবে দেখার আশা

জামায়াতের আমির বলেন,
১১ দল ক্ষমতায় এলে মামুনুল হক শুধু ঢাকা–১৩–এর প্রতিনিধি নন, সারা দেশের একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন।
তিনি দেশের মানুষের অধিকার, আলেম–ওলামা ও ন্যায়নীতির পক্ষে কথা বলবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here