মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে গড়ে তুলছে, আর এই পরিস্থিতিতে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে China। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বেইজিং একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
এই মাসের শেষ দিকে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধ ও এর বৈশ্বিক প্রভাব এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
চীন প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও, একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বেইজিং ইরানকে আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার সঙ্গেও তারা সমন্বয় করছে বলে জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিছু চীনা কোম্পানি এখনও এমন পণ্য ইরানে রপ্তানি করছে, যা বেসামরিক ও সামরিক—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য। যদিও চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের রপ্তানি নীতিমালা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চীনের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ও সামরিক শক্তি এশিয়া থেকে সরে মধ্যপ্রাচ্যে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যা অন্য অঞ্চলে চীনের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
তবে এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানিনির্ভর চীনা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক রুটে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাও প্রভাবিত হচ্ছে।
চীন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। Iran, উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা নিজেদের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে, যদিও সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইছে না।
এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের শুরুতে ইরানকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতেও চীন পর্দার আড়ালে ভূমিকা রেখেছিল। একই সঙ্গে Saudi Arabia ও Pakistan-এর মতো দেশগুলোও কূটনৈতিক সমাধানে চীনের প্রভাব কাজে লাগাতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এই কৌশল মূলত অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে পরিচালিত। তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়, বরং জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য রুট স্থিতিশীল রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।










