প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে ট্রেনে উঠেছে, সেটি গন্তব্যে পৌঁছাবে। আমি চেয়েছিলাম, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমার কিছু অবদান রাখতে হবে, এবং আমি সেই চেষ্টা করছি।”
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুলের কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, “গ্রামে-গঞ্জে মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে, ঈদের আনন্দ নিয়ে তারা ভোট দিচ্ছে। আমরা জাতিকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্যে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”
সিইসি আরও বলেন, “দুই একটায় জায়গায় কেন্দ্রের বাইরে সামান্য গোলমাল হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে মেটানো হচ্ছে।”
তিনি জানান, “এই নির্বাচনে প্রায় ১৭ লাখ লোক কাজ করছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৮ লাখের বেশি ভোটগ্রহণকারী রয়েছেন।” সিইসি বলেন, “এদের একসূত্রে গাঁথা যে কত কঠিন কাজ, তা আপনি কল্পনা করেই দেখুন।”
তিনি আরও জানান, গতকাল দেশের অনেক জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বলেছিলেন, “কারো পক্ষে কাজ করা যাবে না। তারা অবশ্যই নিরপেক্ষ থেকে কাজ করবেন। শুধু নিজে নিরপেক্ষ থাকতে হবে না, আশেপাশের সবাইকেও নিরপেক্ষ রাখতে হবে।”
সিইসি বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও এবং এআই জেনারেটেড ছবি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। যদিও সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে আমরা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার ওপর ভরসা করি এবং আশা করি জনগণও তথ্য যাচাই করে শেয়ার করবে।”
এদিন সকাল সাড়ে ৭টায় দেশব্যাপী ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং ২০২৮ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।










