গতকাল (০৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকা শহরে প্রায় ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণত বৃষ্টির পর বায়ুমান স্বচ্ছ হওয়ার আশা করা হয়। কিন্তু আজ (০৭ মে) সকালে চার্ট অনুযায়ী ঢাকার বায়ুর মান ১৭৭ পৌঁছেছে, যা “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মানে বৃষ্টির পরও রাজধানীর বায়ুদূষণ খুব বেশি।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ বিশেষজ্ঞ ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস)‑এর চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট‑বালু খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে। যানবাহনের চাকায় ধুলো জমে তা ছড়িয়ে দূষণ বাড়ায়। স্থানীয়ভাবে এমন অন্তত ৩০০‑এর বেশি জায়গায় খোলা নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় বৃষ্টি কিছুটা ধুলো কমালে দ্রুত আবার তা দূষণ ছড়ায়। ত্রুটিযুক্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণও ঠিকভাবে করা হচ্ছে না।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার‑এর লাইভ সূচক দেখাচ্ছে, আজও ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেশি। অনেক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী ও চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং বিভিন্ন প্রকল্প চলছে, কিন্তু বায়ুদূষণ কমেনি বরং বেড়েছে। মে মাসে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি এলেও বায়ুমানের উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
মজুমদার আরও বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে বায়ুমানের উন্নতি হতে পারে। এর জন্য বিশেষ কোনো নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন নেই; নগর পরিষদের বিদ্যমান আইনেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু সিটি করপোরেশনগুলো এর প্রতি দুর্বল মনোযোগ দিচ্ছে। আজকের সূচকে ঢাকার পরই পৃথিবীতে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, যার বায়ুমান সূচক ১৫৯।










