অস্ট্রেলিয়ায় সরকারের ৫ শতাংশ ডিপোজিট স্কিম ব্যবহার করে বাড়ি কেনা প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে ঋণ খেলাপির ঝুঁকি বাড়ছে বলে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক নতুন গৃহঋণগ্রহীতা মাসিক কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
Australian Government পরিচালিত এই স্কিমের আওতায় যোগ্য প্রথমবারের ক্রেতারা মাত্র ৫ শতাংশ ডিপোজিট দিয়ে বাড়ি কিনতে পারেন। বাকি অংশে সরকারি সহায়তা থাকায় অনেক তরুণ ও মধ্যবিত্ত পরিবার সহজে সম্পত্তির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্কিমটি সম্প্রসারণের পর নির্ধারিত মূল্যসীমার মধ্যে থাকা বাড়িগুলোর চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নতুন গৃহঋণগ্রহীতাদের মধ্যে বকেয়া বা দেরিতে কিস্তি পরিশোধের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের ঋণ বকেয়ার হার অভিজ্ঞ বা পুরনো ঋণগ্রহীতাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধিই এই চাপের অন্যতম প্রধান কারণ। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক সুদবৃদ্ধির ফলে মাসিক গৃহঋণের কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ছোট ডিপোজিট দিয়ে বাড়ি কেনা মানুষদের জন্য এই বাড়তি কিস্তির চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, কম ডিপোজিট সুবিধা বাজারে প্রবেশ সহজ করলেও এটি নতুন ক্রেতাদের আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে বা আরও বাড়ে, তাহলে অনেক পরিবার ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়তে পারে।
ব্যাংকগুলো সাধারণত বর্তমান সুদের হারের চেয়ে বেশি হার ধরে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই করে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের কারণে বাস্তবে অনেক নতুন ক্রেতার আর্থিক পরিস্থিতি দ্রুত চাপে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির বাজারে প্রবেশের আগে ক্রেতাদের অত্যন্ত সতর্ক পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র কম ডিপোজিটের সুযোগ দেখে বড় ঋণ নেওয়া ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে রক্ষণশীলভাবে ঋণ গ্রহণ, সঞ্চয় ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ সুদবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নইলে প্রথম বাড়ির স্বপ্ন অনেকের জন্য আর্থিক সংকটে পরিণত হতে পারে।










