নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) জুড়ে হাজারো পরিবার নতুন উদ্বেগে পড়েছে, কারণ মিন্স লেবার সরকার আফটার-স্কুল কেয়ার সেবার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ৫০টি স্কুলে এই সেবাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার আউটসাইড স্কুল আওয়ারস কাউন্সিল জানিয়েছে, সরকারের আরোপিত অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই এই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাদের মতে, নতুন খরচের চাপ অনেক সেবাদাতার পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিরোধীদলীয় আর্লি এডুকেশন বিষয়ক মুখপাত্র ফেলিসিটি উইলসন বলেন, এই পরিস্থিতি পুরোপুরি এড়ানো যেত। তিনি অভিযোগ করেন, মিন্স সরকার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং বিরোধী দলের একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে।
উইলসন বলেন, সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি অনেক সেবা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য করবে। এর ফলে হাজারো পরিবার এখন তাদের সন্তানদের দেখভালের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হিমশিম খাবে।
তিনি আরও বলেন, তার নিজের পরিবারও আফটার-স্কুল কেয়ারের ওপর নির্ভরশীল, তাই তিনি বুঝতে পারছেন এই সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের উদ্বেগ কতটা বেড়েছে। অনেক পরিবারকে এখন নতুন ব্যবস্থা করতে হবে, আর অনেক স্কুল ও পি-অ্যান্ড-সি সংগঠনকে সরকারের তৈরি করা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হতে পারে।
বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় শিক্ষা ও প্রারম্ভিক শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে এই ফি বৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও, তিনি উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেন উইলসন। তার মতে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক শিশু প্রয়োজনীয় কেয়ার সুবিধা ছাড়া পড়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, মিন্স সরকার হাজারো পরিবারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে এবং এখন তাদের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ও পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করে বিকল্প সমাধান বের করা।
এদিকে, আউটসাইড স্কুল আওয়ারস কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা ক্রোল বলেন, সরকারগুলোর উচিত এই সিদ্ধান্তগুলোর সম্মিলিত প্রভাব বিবেচনা করা, যাতে সংস্কারের নামে পরিবারগুলোর প্রতিদিন নির্ভরশীল সেবাগুলো ধ্বংস না হয়।
ফেলিসিটি উইলসনের ভাষায়, এটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি নয়। সরকারকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল কী ঘটতে পারে, কিন্তু তারা সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে। এখন এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য রাজ্য যেখানে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ব্যয় সরকারি তহবিল থেকে বহন করছে, সেখানে এনএসডব্লিউ পরিবারগুলোর ওপর সেই বোঝা চাপানো উচিত নয়।










