Vladimir Putin এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে শক্তি ও দেশপ্রেমের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মস্কোর তুলনামূলক ছোট পরিসরের সামরিক প্রদর্শনী রাশিয়ার বাড়তে থাকা নিরাপত্তা সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রতি বছর ৯ মে অনুষ্ঠিত এই বিজয় দিবসের আয়োজন Russia-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই ক্রেমলিনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে এবারের আয়োজন ছিল আগের তুলনায় অনেকটাই সীমিত এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ।
রেড স্কয়ারে ভারী অস্ত্রের অনুপস্থিতি
আগের বছরগুলোর মতো এবার রেড স্কয়ারে ট্যাংক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সামরিক যান প্রদর্শন করা হয়নি। বরং মূলত মার্চিং সেনা, সামরিক একাডেমির ক্যাডেট এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া সক্রিয় সেনাদের নিয়েই কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে বর্তমানে অংশ নেওয়া এক হাজারের বেশি সেনা এবারের প্যারেডে অংশ নেয়। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নেয়, যারা গত বছর কুরস্ক অঞ্চলে রুশ অভিযানে সহায়তা করেছিল বলে দাবি করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে রাশিয়ার অ্যারোবেটিক টিম ও সু-২৫ যুদ্ধবিমান আকাশে রুশ পতাকার রঙে ধোঁয়ার রেখা তৈরি করে উড্ডয়ন প্রদর্শন করে।
ড্রোন হামলার আতঙ্কে কঠোর নিরাপত্তা
এবারের সীমিত আয়োজন মূলত ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকেই করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মস্কোজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয় যাতে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করতে না পারে।
এসব বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়। ডিজিটাল সেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় মস্কোর বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
জেলেনস্কির কটাক্ষ
Volodymyr Zelensky বিজয় দিবসের আগেই মস্কোর নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে কটাক্ষ করেন। এক ঘোষণায় তিনি বলেন, উদযাপনের সময় হামলা না চালিয়ে ইউক্রেন রাশিয়াকে অনুষ্ঠান করার “অনুমতি” দিচ্ছে।
এই মন্তব্য দুই দেশের চলমান মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক লড়াইকেও আরও স্পষ্ট করে তোলে।
যুদ্ধের চাপ এখন রাশিয়ার ভেতরেও দৃশ্যমান
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে মস্কো তুলনামূলকভাবে সংঘাতের বাস্তবতা থেকে দূরে ছিল। কিন্তু এখন ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামরিক অগ্রগতির ধীরগতির কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ও ক্ষমতাকেন্দ্র উভয়ের মধ্যেই অস্বস্তি বাড়ছে।
চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রুশ বাহিনী এখনও পুরো ডনবাস অঞ্চল দখল করতে পারেনি। যুদ্ধক্ষেত্রে ধীরগতির অগ্রগতি ক্রেমলিনের “অবশ্যম্ভাবী বিজয়”-এর প্রচারণার সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করছে।
চাপে রাশিয়ার অর্থনীতিও
যুদ্ধের শুরুতে সামরিক ব্যয় ও জ্বালানি রপ্তানির কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি কিছুটা টিকে থাকলেও এখন উচ্চ সুদের হার, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও এখন অনেক রুশ নাগরিক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের বাস্তবতা মেনে নিতে শুরু করেছেন।
পশ্চিমবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত পুতিনের
রেড স্কয়ারে দেওয়া ভাষণে পুতিন আবারও ইউক্রেন যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সোভিয়েত লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, “বিজয়ী প্রজন্মের মহান আত্মত্যাগ বর্তমান বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে।”
পুতিন ন্যাটোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে “শত্রু শক্তিকে” সমর্থনের অভিযোগ করেন এবং বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে সামরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি
এবারের অনুষ্ঠানে অংশ নেন Alexander Lukashenko, Kassym-Jomart Tokayev এবং Shavkat Mirziyoyevসহ কয়েকজন মিত্র রাষ্ট্রের নেতা।
শক্তি প্রদর্শনের বদলে ‘সহনশীলতার’ বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিজয় দিবস ছিল না অতীতের মতো বিশাল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের আয়োজন। বরং এটি ছিল দীর্ঘ যুদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক চাপে থাকা একটি রাষ্ট্রের “সহনশীলতা” দেখানোর চেষ্টা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ছোট পরিসরের এই প্যারেডকে রাশিয়ার আসন্ন পতনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ পুতিনের নেতৃত্বের ধরন মূলত দীর্ঘস্থায়ী চাপ সহ্য করা এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও কঠোর করার ওপর নির্ভরশীল।
ফলে সামনে রাশিয়া আরও বড় সামরিক মোবিলাইজেশন, কড়াকড়ি অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কিংবা যুদ্ধ সম্প্রসারণের পথেও হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










