Home বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে কানাডা

20
0

বিশ্ব রাজনীতি ও বৈশ্বিক জোট কাঠামোয় দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যেই ইউরোপের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে এগোচ্ছে Canada। একই সঙ্গে European Union-ও কানাডাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে, বিশেষ করে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা সংকটের এই সময়ে।

সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটি সামিটে অংশ নেন। তিনি ছিলেন এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত প্রথম অ-ইউরোপীয় নেতা, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপ-কানাডা সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

ইয়েরেভান সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, ন্যাটো মিত্র রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের নেতারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেখানে কার্নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সম্মেলনে কানাডা ঘোষণা দেয় যে তারা ন্যাটো-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে মার্কিন তৈরি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে প্রায় ২৭০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সফরের প্রকৃত গুরুত্ব ছিল ইউরোপের সঙ্গে কানাডার দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কৌশল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খুঁজছে মধ্যম শক্তিগুলো

বিশ্ব রাজনীতিতে Donald Trump-এর নেতৃত্বে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের ফলে ঐতিহ্যগত জোট কাঠামোয় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও কানাডা উভয়েই নতুন ভারসাম্য খুঁজছে।

ইউরোপীয় নেতারা এখন কানাডাকে নির্ভরযোগ্য “মিডল পাওয়ার” অংশীদার হিসেবে দেখছেন। কার্নিও বারবার এমন একটি কৌশলের কথা বলছেন যেখানে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কার্নি ইউরোপের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।

বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার

কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে, যার মাধ্যমে দুই অঞ্চলের মধ্যে অধিকাংশ শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি অনুমোদন করেনি।

গত বছর কানাডা প্রথম অ-ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা শিল্প উদ্যোগে যোগ দেয়। এর ফলে কানাডীয় কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সরবরাহ চেইন ও সামরিক চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমানে দুই পক্ষ “নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব” গঠনের দিকেও এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, শিল্প উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদে ইউরোপের আগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে ইউরোপ এখন বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে। সেই কারণে কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ ও জ্বালানি রপ্তানির প্রতি ইউরোপের আগ্রহ বাড়ছে।

তবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। অতিরিক্ত পাইপলাইন ও রপ্তানি সক্ষমতার অভাবে কানাডা এখনো ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পাঠাতে পারছে না।

কার্নি অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, এই সম্পর্ক শুধুমাত্র জ্বালানি রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৃহত্তর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ।

সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণ হলেও এর বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই বর্তমানে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাড়তি প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক বিভাজনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

অন্যদিকে কানাডার জন্যও শুধুমাত্র ইউরোপের ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকে এশীয় বাজারগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

পর্যবেক্ষকদের মতে, কানাডা-ইউরোপ ঘনিষ্ঠতা আসলে বৃহত্তর বৈশ্বিক পরিবর্তনেরই অংশ। বিশ্বজুড়ে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো এখন নতুন জোট গঠনের চেষ্টা করছে, কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং মার্কিন নেতৃত্বের পরিবর্তন নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যেই কানাডা ও ইউরোপ নিজেদের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের জন্য আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাইছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here