Home এশিয়া পেসিফিক অস্ট্রেলিয়ায় কর প্রতিশ্রুতি ঘিরে নতুন বিতর্ক — বিরোধীদের পরিকল্পনায় ‘$১২.৫ বিলিয়নের ঘাটতি’...

অস্ট্রেলিয়ায় কর প্রতিশ্রুতি ঘিরে নতুন বিতর্ক — বিরোধীদের পরিকল্পনায় ‘$১২.৫ বিলিয়নের ঘাটতি’ অভিযোগ

22
0

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কর নীতি নিয়ে। ক্ষমতাসীন Australian Labor Party দাবি করেছে, বিরোধী জোটের নেতা Angus Taylor যে ২২.৫ বিলিয়ন ডলারের কর ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের বড় ঘাটতি বা “ব্ল্যাক হোল”।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আয়কর কাঠামোকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা। টেইলর সম্প্রতি বাজেট-উত্তর বক্তব্যে ঘোষণা দেন, ২০২৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিম্ন আয়ের দুটি কর ধাপকে (tax bracket) মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে তিনি “প্রজন্ম বদলে দেওয়া কর সংস্কার” আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

তার দাবি ছিল, এই নীতির ফলে প্রথম বছরে গড় করদাতা প্রায় ২৫০ ডলার কর ছাড় পাবেন এবং চার বছরের মধ্যে সব করদাতাই প্রায় ১০০০ ডলার পর্যন্ত কর সাশ্রয় করতে পারবেন।

কিন্তু লেবার সরকারের নতুন বিশ্লেষণ বলছে, এই পরিকল্পনার প্রকৃত ব্যয় বিরোধীদের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার বলছে, পার্লামেন্টারি বাজেট অফিসের SMART মডেল ব্যবহার করে হিসাব করলে দেখা যায়, এই কর নীতির ব্যয় চার বছরে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে—যা বিরোধীদের ঘোষিত হিসাবের তুলনায় ১২.৫ বিলিয়ন ডলার বেশি।

সরকার আরও অভিযোগ করেছে, বিরোধীরা পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে জনগণকে জানায়নি। কারণ সাধারণ করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে বেতন থেকে কম কর কাটার সুবিধা পাবেন না; বরং আর্থিক বছরের শেষে ট্যাক্স রিফান্ড আকারে অর্থ ফেরত পাবেন।

অন্যদিকে বিরোধী জোট বলছে, তাদের হিসাবও সঠিক। তারা পার্লামেন্টারি বাজেট অফিসের ভিন্ন একটি “Build Your Own Budget” পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তবে টেইলরের কার্যালয় এই নতুন বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ক্ষমতাসীন সরকার দাবি করছে, বিরোধীদের হিসাব তখনই মিলবে যদি তারা লেবারের ঘোষিত “Working Australian Tax Offset” বাতিল করে। এই কর ছাড় মূলত চাকরিজীবী ও শ্রম আয়ের ওপর নির্ভরশীল অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। কারণ লেবার সরকার ইতোমধ্যে নেগেটিভ গিয়ারিং, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স এবং ফ্যামিলি ট্রাস্টে বড় সংস্কার এনেছে, যেগুলো বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিরোধী দল।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, কর ধাপকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে পারে। কারণ এতে বেতন বাড়লেও মানুষ ধীরে ধীরে উচ্চ কর শ্রেণিতে চলে গিয়ে অতিরিক্ত করের বোঝা বহন করবে না।

তবে সমালোচকেরা সতর্ক করছেন, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে এমন নীতি চালু করলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে এবং বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগামী বছরগুলোতে এই নীতির মোট ব্যয় ১৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে সরকারের হিসাব বলছে।

এদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন Australian Chamber of Commerce and Industry-ও বিরোধীদের সতর্কভাবে এগোতে বলেছে। সংগঠনটির মতে, কর সংস্কার ভালো হলেও এর আর্থিক প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে এখন কর, অভিবাসন, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়—সবকিছুই বড় নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আর এই নতুন কর বিতর্ক সেই রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here