অস্ট্রেলিয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক ভিন্নধর্মী বিদায় আয়োজন—“লিভিং ওয়েক” বা “লিভিং ফিউনারেল”। এটি এমন এক অনুষ্ঠান, যেখানে মানুষ মৃত্যুর পরে নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে শেষবারের মতো স্মৃতি ভাগাভাগি ও বিদায় উদযাপন করেন।
বিশেষ করে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা জীবনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে যাওয়া অনেকে এখন প্রচলিত শোকসভা বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বদলে জীবিত অবস্থায় ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাড়ছে, কারণ মানুষ এখন মৃত্যু নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।
University of Melbourne-এর নৃতত্ত্ববিদ Cindy Stocken বলেন, লিভিং ওয়েক মানুষকে সামাজিক বা ধর্মীয় কঠোর নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন করার সুযোগ দেয়।
এই আয়োজনের ধরনও একেকজনের জন্য একেক রকম। কেউ বাড়ির পেছনের উঠোনে বারবিকিউ পার্টি করেন, কেউ সমুদ্রসৈকতে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেন, আবার কেউ আয়োজন করেন জমকালো ডিনার বা থিমভিত্তিক অনুষ্ঠান।
অনেক অনুষ্ঠানে থাকে প্রিয় গান, স্মৃতিচারণ, বক্তব্য, হাস্যরস, নাচ কিংবা প্রিয় খাবারের আয়োজন। মূল উদ্দেশ্য একটাই—প্রিয় মানুষদের সামনে থেকেই ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও বিদায়ের অনুভূতি প্রকাশ করা।
সমর্থকদের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠান শুধু মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকেই মানসিক শান্তি দেয় না, বরং পরিবার ও বন্ধুদের শোকও অনেকটাই কমিয়ে আনে।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যু নিয়ে আগেভাগে খোলামেলা আলোচনা এবং বিদায়ের প্রস্তুতি পরিবারগুলোর মানসিক চাপ, ভয় ও একাকীত্ব কমাতে সাহায্য করে।
এই প্রবণতা অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংস্কৃতিকেও তুলে ধরছে। এখন অনেক মানুষ প্রচলিত গির্জাভিত্তিক আনুষ্ঠানিক শোকসভা থেকে সরে এসে ব্যক্তিগত ও অর্থবহ “Celebration of Life” আয়োজনের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাড়তে থাকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ, সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এবং জীবনের শেষ সময়টাকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলার ইচ্ছাই এই নতুন সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার পেছনে বড় কারণ।
অনেকে আবার অসুস্থ না হলেও নিজের জীবদ্দশায় প্রিয়জনদের কাছ থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা শুনতে, পুরোনো সম্পর্কগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সঙ্গে শেষবারের মতো সময় কাটাতেই এই ধরনের আয়োজন করছেন।
সমর্থকদের ভাষায়, “লিভিং ওয়েক” মানুষকে মৃত্যুভয় থেকে দূরে রেখে জীবনের মূল্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখায়।










