Home মতামত বড় রাজনৈতিক জুয়া খেলছেন আলবানিজ” — হাউজিং ট্যাক্স সংস্কার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

বড় রাজনৈতিক জুয়া খেলছেন আলবানিজ” — হাউজিং ট্যাক্স সংস্কার ঘিরে তীব্র বিতর্ক

31
0

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর প্রস্তাবিত আবাসন কর সংস্কারকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকির সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সমালোচকদের দাবি, লেবার সরকারের এই ব্যাপক কর পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক যুক্তির চেয়ে রাজনৈতিক কৌশলই বেশি কাজ করছে।

বিশেষ করে ট্রেজারার Jim Chalmers-এর নেগেটিভ গিয়ারিং ও ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সুবিধা পরিবর্তনের পরিকল্পনা এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ৫০ শতাংশ CGT ডিসকাউন্ট বাতিল করে তার পরিবর্তে মুদ্রাস্ফীতিভিত্তিক ইনডেক্সেশন মডেল চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীদের জন্য নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা সীমিত করা হবে, যদি না তারা নতুন বাড়ি নির্মাণ বা সদ্য নির্মিত সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেন।

সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া তরুণদের জন্য বাজারে কিছুটা ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতি স্বল্পমেয়াদে উল্টো নতুন বাড়ি নির্মাণ কমিয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রেজারির কিছু মডেলিং অনুযায়ী এই সংস্কারের ফলে প্রায় ৩৫ হাজার কম নতুন বাড়ি নির্মিত হতে পারে। যদিও সরকার অন্যান্য অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির ফলে বাড়ির দাম পুরোপুরি কমবে না; বরং দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। একইভাবে ভাড়াও বাড়তেই পারে, যদিও তুলনামূলক ধীর গতিতে।

এই কারণে অনেকের মতে, সরকারের প্রকৃত লক্ষ্য শুধু আবাসন বাজার পরিবর্তন নয়; বরং “ন্যায়বিচার” ও “আবাসন সামর্থ্য” নিয়ে জনমতকে নতুনভাবে গঠন করা।

বিশ্লেষণটিতে আলবানিজকে অত্যন্ত সতর্ক ও কৌশলী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তিনি বড় ধরনের সংস্কার আনার আগে দীর্ঘ সময় ধরে জনমত যাচাই করেন এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসাব করে এগোন।

লেবার পার্টি সম্ভবত হিসাব করছে যে, শুরুতে বিনিয়োগকারীদের কর-সুবিধা কমানো নিয়ে বিরোধিতা তৈরি হলেও ভবিষ্যতে যদি Liberal Party of Australia বা জোট সরকার সেই সুবিধা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তাহলে তা রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অর্থাৎ, লেবার নিজেদের এমন একটি অবস্থানে দাঁড় করাতে চাইছে যেখানে তারা তরুণ ও প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের “রক্ষক” হিসেবে পরিচিত হবে, আর বিরোধীদের ধনী বিনিয়োগকারী ও সম্পদশালীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দল হিসেবে তুলে ধরা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগেই এই কৌশল বিরোধী জোটকে কঠিন রাজনৈতিক অবস্থানে ফেলতে পারে। কারণ চলমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের সময় বিনিয়োগকারীদের কর-সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

প্রবন্ধটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Malcolm Turnbull এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর উদাহরণও টানা হয়েছে। লেখকের মতে, আলবানিজ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে পরিণত ও কৌশলগত চিন্তাশীল নেতা।

তবে পুরো পরিকল্পনাটিকে এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে, আবাসন সংকট কমার বদলে আরও খারাপ হয়, অথবা সরকারের প্রতি জনআস্থা কমে যায়—তাহলে এই সংস্কার রাজনৈতিকভাবে বড় “বুমেরাং” হয়ে ফিরে আসতে পারে।

সমর্থকদের মতে, আবাসন বাজারে দীর্ঘদিনের বৈষম্য কমাতে এই ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সমালোচকরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত কর পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে এবং নতুন আবাসন সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন করনীতি এখন শুধু অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here