Home মতামত বাজেট, হাউজিং ও সংস্কৃতি যুদ্ধ — উত্তপ্ত অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি

বাজেট, হাউজিং ও সংস্কৃতি যুদ্ধ — উত্তপ্ত অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি

32
0

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেট ঘোষণার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কর সংস্কার, আবাসন সংকট, অভিবাসন নীতি এবং লিঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর লেবার সরকার সম্প্রতি বিনিয়োগ সম্পত্তি সংক্রান্ত কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) এবং নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধায় সংস্কার।

সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার অতীতে এসব কর সুবিধা পরিবর্তন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাদের মতে, এই পরিবর্তন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাজেট পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান অভিবাসন প্রবাহের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা ৩ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তবে সমালোচকদের দাবি, পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ না বাড়িয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আবাসন সংকট আরও তীব্র হবে।

রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি বড় বিষয় হয়ে ওঠে বহুল আলোচিত “Giggle v Tickle” মামলার রায়। Federal Court of Australia রায় দিয়েছে যে নারী-কেন্দ্রিক নেটওয়ার্কিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা Sall Grover ট্রান্সজেন্ডার নারী Roxanne Tickle-কে অ্যাপে প্রবেশাধিকার না দিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন।

এই রায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, এটি নারী-নির্ধারিত অধিকার, লিঙ্গ পরিচয় আইন এবং শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ স্থানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে রায়ের সমর্থকরা বলছেন, এটি ট্রান্সজেন্ডার অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

প্রতিবেদনটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Julia Gillard-এর সময়ে Sex Discrimination Act-এ আনা পরিবর্তনেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংশোধনীগুলোই পরবর্তীতে লিঙ্গ পরিচয় ও জৈবিক লিঙ্গের সংজ্ঞা নিয়ে আইনি বিরোধের পথ তৈরি করেছে।

এদিকে ভিক্টোরিয়ায় নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে সাবেক প্রিমিয়ার Daniel Andrews-কে সম্মান জানিয়ে ব্রোঞ্জের মূর্তি নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে। সমালোচকদের দাবি, রাজ্যের বিপুল ঋণ এবং কঠোর কোভিড লকডাউন নিয়ে এখনো বিভক্ত জনমতের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে বিতর্কিত মনে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ইস্যুগুলোও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিরোধীরা বলছে, লেবার সরকারের আবাসন ও করনীতি ভবিষ্যতে ভাড়া আরও বাড়াতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ির মালিক হওয়া আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

তবে সরকার দাবি করছে, এসব সংস্কারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজারকে আরও ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করা।

অন্যদিকে বিরোধী জোটও নিজেদের বিকল্প নীতি সামনে আনতে শুরু করেছে। Liberal Party of Australia ও জোটের কিছু নেতার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আয়কর ধাপগুলোকে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা এবং কিছু কল্যাণভাতা শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মধ্যে সীমিত রাখা।

সমর্থকদের মতে, এসব নীতি অর্থনীতি ও অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নির্দেশ করে। কিন্তু সমালোচকরা সতর্ক করছেন, এ ধরনের অবস্থান সমাজে বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ এখন ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী ফেডারেল নির্বাচনের আগে বড় দুই রাজনৈতিক দলই চেষ্টা করছে নিজেদেরকে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং সরকারের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here