Home মতামত বাজেট বদলে স্বপ্নে ধাক্কা: বাড়ির মালিক হওয়ার আশা হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম

বাজেট বদলে স্বপ্নে ধাক্কা: বাড়ির মালিক হওয়ার আশা হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম

18
0

অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ফেডারেল বাজেট পরিবর্তন নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বহু পরিবার মনে করছে, সরকারের নতুন করনীতি ও বিনিয়োগসংক্রান্ত পরিবর্তনের কারণে তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজের বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এক মতামতমূলক প্রতিবেদনে এক মায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি জানান—তার দুই মেয়ে বহু বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার স্বপ্ন গড়ে তুলছিল। একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত, আর অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে সম্প্রতি কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। দুজনই বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান তরুণদের মতো ব্যয় কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পত্তি বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

তারা “রেন্ট-ভেস্টিং” কৌশল অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় একটি বিনিয়োগ সম্পত্তি কিনে, কাজের সুবিধার জন্য বড় শহরে ভাড়া বাসায় থাকা। বাড়ির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মিলেনিয়াল ও জেন-জেডদের মধ্যে এই পদ্ধতি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কিন্তু সরকারের নেগেটিভ গিয়ারিং ও ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সুবিধায় পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই কর সুবিধা কমে গেলে সম্পত্তিতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমবে, যা শেষ পর্যন্ত তরুণদের বাড়ি কেনার স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলবে।

শুধু সম্পত্তি নয়, অনেকে শেয়ারবাজার ও ETF-এ বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতের বাড়ির ডিপোজিট জমাচ্ছিলেন। নতুন নীতির প্রভাবে সেই সঞ্চয় কৌশলও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের আত্মনির্ভরশীলতা, পরিশ্রম এবং ধীরে ধীরে সম্পদ গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়ে এসেছে। কিন্তু নতুন অর্থনৈতিক নীতিগুলো তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। অনেকেই এখন মনে করছেন, যতই কঠোর পরিশ্রম করা হোক না কেন, নিজের বাড়ি কেনার পথ দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

সরকার নতুন বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইলেও সমালোচকদের মতে, নতুন নির্মিত বাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি, মূলধনী প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর এবং একই বাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগকারীর প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত অর্থনৈতিক বিশ্লেষক Mark Bouris-ও এই সংস্কারের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ধনী বিনিয়োগকারীদের ওপর নয়, বরং সাধারণ ভাড়াটিয়া, ট্রেডি, ছোট ব্যবসায়ী এবং তরুণ পরিবারগুলোর ওপরও পড়বে।

অন্যদিকে সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আবাসন বাজারকে আরও ন্যায্য করা এবং প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের সুযোগ বাড়ানো। তবে সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে এই নীতিগুলো স্বল্পমেয়াদে বাড়ির দাম কমাতে বা তরুণদের জন্য পরিস্থিতি সহজ করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পুরো বিতর্কটি এখন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর একটি বড় উদ্বেগের প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, বর্তমান প্রজন্ম কঠোর পরিশ্রম করেও আগের মতো আর্থিক নিরাপত্তা ও বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here