মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সিরিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে তার প্রশাসন। বুধবার (১৪ মে) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ট্রাম্প জানান, গত বছর আসাদ সরকারের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, এটি সিরিয়ার জন্য এক মহান সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারা নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এখন সিরিয়ার ক্ষমতায়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে নতুন সরকারের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই তুরস্কে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শায়বানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া রিয়াদে ট্রাম্প ও আল-শারার মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আল-শারার সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শায়বানি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে আমাদের পুনর্গঠনের পথে একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখছি।”
জাতিসংঘের সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত গিয়ের পেডারসেনও বলেন, “স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনীতির পুনর্জাগরণের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া জরুরি।”
এর আগে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও, পুরোপুরি তুলে নেয়নি।










