Home বিশ্ব ‘বিশ্বের দরিদ্রতম প্রেসিডেন্ট’ হোসে মুজিকা আর নেই

‘বিশ্বের দরিদ্রতম প্রেসিডেন্ট’ হোসে মুজিকা আর নেই

150
0

উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে ‘পেপে’ মুজিকা ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। ‘বিশ্বের দরিদ্রতম প্রেসিডেন্ট’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত মুজিকা অসুস্থতার অন্তিম পর্যায়ে ছিলেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্ডু ওরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

ওরসি তার পোস্টে বলেন, ‘গভীর বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের কমরেড পেপে মুজিকা আর নেই। প্রেসিডেন্ট, অধিকারকর্মী, পথপ্রদর্শক এবং চালিকাশক্তি। প্রিয় বৃদ্ধ, আমরা আপনাকে অনেক মিস করব। আমাদের যা কিছু শিখিয়েছেন এবং আপনার জনগণের প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ।’

১৯৩৫ সালের ২০ মে জন্মগ্রহণকারী মুজিকা ১৯৬০-এর দশকে কিউবা বিপ্লবে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘মুভিমিয়েন্টো দে লিবারাসিওন ন্যাসিওনাল-টুপামারোস’ (এমএলএন-টি) নামে একটি শহুরে গেরিলা গোষ্ঠীর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৭২ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি একবার জেল থেকেও পালিয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে উরুগুয়ের সামরিক শাসনের অবসানের পর সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ১৩ বছর কারাগারে কাটান। এ সময় তাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাসও করতে হয়েছে।

কারামুক্তির পর মুজিকা রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ডেপুটি ও সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে উরুগুয়ের বামপন্থী জোট ‘ফ্রেন্তে আম্প্লিও’র প্রথম সরকারে তিনি পশুসম্পদ, কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে মুজিকার নেতৃত্বে উরুগুয়ের অর্থনীতিতে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৪%। এসময় দারিদ্র্যের হার কমে আসে এবং বেকারত্বও নিম্ন পর্যায়ে ছিল। ৩০ লাখের বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে ক্ষমতা ছাড়ার সময় মুজিকার অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা ছিল প্রায় ৭০%।

উরুগুয়ের সীমানা পেরিয়ে ‘পেপে’ মুজিকা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন প্রথাবিরোধী নেতৃত্ব ও বিনয়ের প্রতীক হিসেবে। কেবল তার গেরিলা অতীত বা গর্ভপাত, গাঁজা ও সমকামী বিয়ের বৈধতা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের মতো প্রগতিশীল নীতির জন্যই নয়, বরং তার অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন এবং ভোগবাদ ও বৈশ্বিক বৈষম্যের তীক্ষ্ণ সমালোচনার জন্যও তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে না থেকে মন্টেভিডিওর উপকণ্ঠে স্ত্রী লুসিয়া তোপোলানস্কি—একজন সহকর্মী রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন গেরিলা সদস্য—এর সঙ্গে নিজেদের সাধারণ খামারবাড়িতে বসবাস করতেন। সাধারণ পোশাক, ন্যূনতম নিরাপত্তা এবং নিজের পুরোনো ১৯৮৭ সালের ভক্সওয়াগেন বিটল গাড়ি নিজেই চালিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি তার রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বেতনের সিংহভাগই দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here