তাসমানিয়ার উপকূলে ফের একবার ভেসে উঠল সেই ভয়ংকর সমুদ্রজীব—‘ওরাফিশ’, যাকে সাধারণত ‘মৃত্যুর মাছ’ নামেই চেনে অনেকেই। অপ্রত্যাশিতভাবে এই বিশালাকৃতির গভীর সমুদ্রের বাসিন্দা মাছটির দেখা মেলায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী মহলে।
ওরাফিশ এমন এক সামুদ্রিক প্রাণী, যেটি সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং সমুদ্রের ১৫০ থেকে ৫০০ মিটার গভীরে বসবাস করে। এর উপস্থিতিকে ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস বলেই ধরা হয় অনেক সংস্কৃতিতে। তাই এর হঠাৎ দেখা পাওয়া নতুন করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি সমুদ্রের ধারে হেঁটে বেড়ানোর সময় মৃত মাছটিকে প্রথম দেখতে পান। চারপাশে তখন কয়েকটি সামুদ্রিক ঈগল ঘুরছিল মাছটিকে খাওয়ার উদ্দেশ্যে। পরে তারা পাখিদের সরিয়ে মাছটিকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মাছটির গায়ে ছিল একাধিক ক্ষতচিহ্ন এবং এটি ছিল প্রায় ৯ ফুট দীর্ঘ। দেখে বোঝা যাচ্ছিল এটি গভীর সমুদ্র থেকেই ভেসে এসেছে।
তাসমানিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাছটির ছবি ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে ছড়ায় তীব্র উৎকণ্ঠা। কেউ কেউ এটিকে অশুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের গল্প তৈরি করছেন এর চারপাশে।
তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন, “ওরাফিশ খুবই বিরল প্রজাতির মাছ। এরা সাধারণত জেলের জালে ধরা পড়ে না। গভীর সমুদ্রের নিভৃত অঞ্চলে ধীরগতিতে চলাফেরা করে ও জলজ উদ্ভিদ খেয়েই বেঁচে থাকে। এত বড় একটি ওরাফিশ দেখে আমরা বিস্মিত।”
ওরাফিশের ওজন প্রায় ৪০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, এবং এটি সমুদ্রের অন্যতম রহস্যময় প্রাণী হিসেবেই পরিচিত।
তবে এই বিরল মাছের হঠাৎ আবির্ভাবে ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এখন সকলের প্রশ্ন—এই সংকেত কি বড় কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে?









