জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন উদ্বেগ জানিয়ে জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থনে আহতদের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) তালিকা তৈরি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। তাদের তদন্তে উঠে এসেছে, অনেকে প্রকৃতপক্ষে আহত না হয়েও ভুয়া মেডিক্যাল নথি ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তালিকায় নাম তুলেছেন।
ফাউন্ডেশন বলেছে, এই অনিয়ম শুধু আহতদের প্রতি নয়, শহীদদের আত্মত্যাগ ও জাতীয় আন্দোলনের মর্যাদার প্রতিও অবমাননা। প্রক্রিয়াটিকে দুর্বল, অবহেলাপূর্ণ এবং রাজনৈতিক চাপের ফলে বিকৃত বলে উল্লেখ করেছে তারা।
সরকারি নির্দেশনায় যারা ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে আবেদন করে এমআইএস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, অনেকেই আন্দোলনে অংশ না নিয়েও ভুয়া পরিচয় দিয়ে তালিকায় নাম তুলেছেন। কেউ কেউ অন্য দুর্ঘটনায় আহত হয়েও নিজেদের আন্দোলনে আহত হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
এমনকি কয়েকজন আন্দোলনের পরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েও শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। চাটখিলের ইমতিয়াজ হোসেন পুলিশের লুট করা অস্ত্রের গুলিতে নিজের পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনিও শহীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। একইভাবে, ডেমরার আবু সাইদ গণপিটুনিতে নিহত হন, যাত্রাবাড়ীতে বিজয় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, পুরান ঢাকায় জমি বিরোধে নিহত হন আল আমিন — তারাও শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
ফাউন্ডেশনের গণমাধ্যম প্রধান জাহিদ হোসাইন জানান, তারা ১৯ জনের নাম বাতিলের সুপারিশ করেছে এবং প্রায় ৭০ জন ভুয়া আহতকে শনাক্ত করেছে। কেউ কেউ টাকা ফেরত দিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের গ্রাহক সেবা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ বলেন, আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। ফলে যারা আন্দোলনে অংশ নেয়নি তারাও সুযোগ নিয়েছে। তিনি জানান, আরও এক থেকে দেড় হাজার ভুয়া নাম থাকতে পারে এবং সঠিক যাচাই হলে তা বের করা সম্ভব।
এ বিষয়ে গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা মো. মশিউর রহমান বলেন, শহীদের তালিকা নিয়ে বড় কোনো আপত্তি নেই, তবে আহতদের তালিকায় অনেক অভিযোগ আসছে, যেগুলো পুনরায় যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।










