রাজনীতিতে ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য পরিচিত ওবায়দুল কাদের একই নাম ব্যবহার করেছেন নিজের মন্ত্রণালয়ের একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট চালানোর জন্য—এমনটাই জানা গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক সহযোগীদের নিয়ে গঠন করেন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার বণ্টন এবং সরকারি কাজের বিনিময়ে কমিশন আদান-প্রদান হতো। এই সিন্ডিকেটকেই গোপনে বলা হতো ‘খেলা হবে’।
সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিলেন তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেছা কাদের, ভাই কাদের মির্জা, সাবেক এমপি নিজাম হাজারী ও একরামুল করিম চৌধুরী, এবং একজন সাবেক সচিব।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাজের ৯০ শতাংশই গিয়েছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। তারা আগেভাগেই ঠিক করে নিত কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে, আর এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া ছিল কেবল লোক দেখানো। এতে করে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে ১৫টি কোম্পানি।
একটি বাস প্রকল্পেও দুর্নীতির আলামত মিলেছে। তিন দফা দরপত্রে দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেটের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চেষ্টা হয়, যদিও প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।
সম্পদের হিসাবেও রয়েছে ফারাক। ২০০৮ সালের তুলনায় ওবায়দুল কাদেরের আয় ও সম্পদ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ অনেক কম দেখানো হলেও অনুসন্ধানে বিদেশে, বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আইনজীবী সুলতান মাহমুদ এ বিষয়ে দুদকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন এবং রাষ্ট্রের পক্ষে এসব অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান। দুদকের গোয়েন্দা বিভাগ অধিকাংশ অভিযোগ সত্য প্রমাণ করেছে এবং এখন পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে কাজ করছে।
সবশেষ তথ্যে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ব্যয়বহুল এলাকাগুলোতে ও কিচেনার রোডে তার ও পরিবারের নামে রয়েছে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট, মানি একচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি। ব্যাংকক ও নিউইয়র্কেও রয়েছে বিলাসবহুল সম্পদ ও ব্যবসা।










