Home বাংলাদেশ খিলক্ষেতে অস্থায়ী মণ্ডপ অপসারণ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

খিলক্ষেতে অস্থায়ী মণ্ডপ অপসারণ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

153
0

ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় একটি অস্থায়ী পূজা মণ্ডপ অপসারণ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় জমিতে কোনো অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ বৈধ নয়।

শুক্রবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু গণমাধ্যমে খিলক্ষেত এলাকার একটি দুর্গা মন্দির ধ্বংসের দাবি তুলে ধরায় সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের দুর্গাপূজার সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় পূর্বানুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে একটি অস্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণ করে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পূজার জন্য অস্থায়ীভাবে জমি ব্যবহারের অনুমতি দেয়, শর্ত ছিল পূজা শেষ হলে মণ্ডপ সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু পূজার সমাপ্তির পর আয়োজকেরা সেই শর্ত লঙ্ঘন করে মণ্ডপটি না সরিয়ে সেখানে ‘মহাকালী’ প্রতিমা স্থাপন করেন এবং তা স্থায়ীভাবে রূপান্তরের চেষ্টা করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা সতর্ক করার পরও তা উপেক্ষিত হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেলওয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি ও আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খিলক্ষেত রেললাইন ঘেঁষা উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে শতাধিক অবৈধ দোকান, রাজনৈতিক কার্যালয় এবং পূজার মণ্ডপও ছিল।

এ জমি ‘ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ সেকশন ডুয়েল গেজ লাইন’ এবং ‘টঙ্গী-জয়দেবপুর ডাবল লাইন’ প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও দখলদাররা জায়গা ছাড়েনি, ফলে ২৪ ও ২৫ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়। ২৬ জুন শান্তিপূর্ণভাবে রেলওয়ে জমি থেকে সব অবৈধ স্থাপনা— অস্থায়ী পূজা মণ্ডপ—অপসারণ করা হয়।

উচ্ছেদ চলাকালে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সর্বদা সুরক্ষিত থাকে, কিন্তু সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে ধর্মীয় স্থাপনা স্থাপন করার সুযোগ নেই। মণ্ডপের আয়োজকেরা পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে রেলওয়ের আস্থা ও সদিচ্ছার অপব্যবহার করেছেন।

বাংলাদেশ সরকার সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিশীল। সরকার সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তথ্য ও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here