মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে বিপুল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের মধ্যে পালিত হলো ‘বাংলাদেশ উৎসব’। কুয়ালালামপুরের ক্রাফট কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অগ্রগতি তুলে ধরা হয় সঙ্গীত, নৃত্য, ফ্যাশন শো, দেশীয় খাবার ও নানা সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে।
শুক্রবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঞ্চায়িত হয়েছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের ভেন্যু সাজানো হয়েছিল রিকশা, হস্তশিল্প, কারুপণ্যসহ নানা দেশীয় অনুষঙ্গ দিয়ে। প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার ট্যুরিজম, আর্টস ও কালচার মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়াইবিএইচজি দাতো শাহারুদ্দিন বিন আবু সহত। এতে অংশগ্রহণ করেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিদেশি দূত, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার শামীম আহসান ও তার স্ত্রী পেন্ডোরা চৌধুরী অতিথিদের আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। হাইকমিশনার তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ উৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও বহুমাত্রিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সফর করে তার সমর্থন জানান, যা দুই দেশের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।
মালয়েশিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল দাতো শাহারুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি মালয়েশিয়ার মতোই বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এই উৎসব বাংলাদেশি সমাজের সৌন্দর্য এবং তাদের সার্বিক অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি বহন করে। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য শুভ কামনা জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যেখানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং হাইকমিশনের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মেহরিনের পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
অতিথিদের জন্য পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। বিশেষভাবে প্রশংসা পেয়েছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের শেফদের প্রস্তুতকৃত ‘স্মোকড ইলিশ’। পাশাপাশি ছিল ফুচকা, ঝালমুড়ি, চা ও পিঠার স্টল, যা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বাংলাদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠান যেমন প্রাণ, হোপ, মৈত্রী, যারা তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক রেমিট্যান্স হাউজ বুথের মাধ্যমে প্রবাসীদের সেবা বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়।
‘বাংলাদেশ কর্নার’-এ প্রদর্শিত হয় হস্তশিল্প, রপ্তানিযোগ্য পণ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রকাশনা, যা অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুরো ক্রাফট কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণকে সাজানো হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উপাদান দিয়ে।
বাংলাদেশের পর্যটন, অর্থনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়, যা অতিথিদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে আগ্রহ জাগায়।
অনুষ্ঠান শেষে মালয়েশিয়ার সেক্রেটারি জেনারেলকে উপহার দেওয়া হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি ফ্রেম, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপিত হয়।










