Home বাংলাদেশ কমিটি ও মনোনয়ন বিতর্কে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ

কমিটি ও মনোনয়ন বিতর্কে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ

370
0

আওয়ামী লীগের দীর্ঘসময় ধরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে দলের বিভিন্ন স্তরে কমিটি গঠন ও নির্বাচনী মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি তিন দফায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দলীয় পদ এবং মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুসারে, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পদের জন্য নির্ধারিত অঙ্কে অর্থ লেনদেন হতো।

যেমন ওয়ার্ড কমিটির সদস্যপদ পেতে ৫–১০ লাখ, সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রায় ২০ লাখ, থানা পর্যায়ে ১৫–২০ লাখ, জেলা পর্যায়ে ৩০ লাখ এবং মহানগর পর্যায়ে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে বলা হয়, দলীয় যোগ্যতা নয়, বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতাই ছিল পদ পাওয়ার মূল মাপকাঠি।

সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, দলের আট সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্ব পালন করতেন এবং তাঁরাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কারা অর্থ দিতে আগ্রহী—তা নির্ধারণ করে নাম দিতেন সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

মনোনয়ন বিতরণেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন পদে প্রার্থী মনোনয়নে টাকার বিনিময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০–৫০ লাখ টাকা, উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য ১–৫ কোটি টাকা, এবং পৌরসভার মেয়র পদের জন্য ৫–১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।

সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত না থাকলেও “নিলাম পদ্ধতিতে” মনোনয়ন দেওয়া হতো বলে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ঢাকার একটি আসনের মনোনয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, এবং নারায়ণগঞ্জের একজন সাবেক মন্ত্রীর মনোনয়ন পুনঃনিশ্চিত করার জন্য একইভাবে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।

ঢাকা জেলার কমিটি গঠনের সময়ও উল্লেখযোগ্য অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। দলীয় উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি কমিটি গঠনের জন্য ২০০ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে একটি বৈঠকে নিজেই উল্লেখ করেছিলেন।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্ষেত্রে বলা হয়, সেখানে কমিটি গঠনে প্রভাব রেখেছেন আলাদা নেতৃবৃন্দ, এবং এসব ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আছে।

এই প্রক্রিয়ার ফলে অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন কমিটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনকারী, এমনকি মামলার আসামিরাও জায়গা পেয়েছেন—যা দলটির ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক হয়েছে বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here