Home এশিয়া পেসিফিক অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া-র জন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া

অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া-র জন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া

173
0

আপনি কি এমন কাউকে চেনেন, যিনি তাঁর কমিউনিটিতে ব্যতিক্রমী অবদান রেখে চলেছেন? তিনি যেকোনো পেশা বা সামাজিক প্রেক্ষাপটের মানুষ হতে পারেন। যদি আপনি মনে করেন তাঁর কাজ উদযাপনের যোগ্য, তাহলে আপনি চাইলে তাঁকে ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ এর জন্য মনোনয়ন দিতে পারেন। ‘অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইনড’-এর এই পর্বে আমরা জানব, কেন আমাদের চারপাশের সাধারণ মানুষদের অসাধারণ কৃতিত্ব উদযাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। যতো বেশি অনন্য মানুষদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তত বেশি অস্ট্রেলিয়ান সম্মাননার তালিকায় এই দেশের প্রকৃত বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হবে।

অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া আমাদের জাতীয় সম্মাননা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সেই অস্ট্রেলিয়ানদের সম্মানিত করার একটি ব্যবস্থা, যারা নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে সমাজের জন্য অসাধারণ অবদান রাখেন।

এই সম্মাননার জন্য মনোনয়ন পর্যালোচনা করে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া কাউন্সিল’, যারা গভর্নর-জেনারেলকে সুপারিশ করে।

গভর্নর-জেনারেলের অফিসের পরিচালক রব আয়লিং বলেন, “অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া আসলে সব অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি কমিউনিটির মধ্যে থেকেই শুরু হয়, যখন কেউ মনোনয়ন দেয়।”

মনোনয়নের পরে, ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া কাউন্সিল’ পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে এবং ঠিক করে কারা এই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, এবং কোন স্তরে তা প্রদান করা হবে।

অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার চারটি স্তর রয়েছে:

  1. কম্প্যানিয়ন অব দ্য অর্ডার (AC)
  2. অফিসার অব দ্য অর্ডার (AO)
  3. মেম্বার অব দ্য অর্ডার (AM)
  4. মেডেল অব দ্য অর্ডার (OAM)

এই চারটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রদত্ত সম্মাননা হলো OAM।

মাইকেল স্মিথ, একজন ব্যক্তি যিনি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বলেন, “যে ব্যক্তির মনোনয়ন পত্রে আমি যুক্ত ছিলাম, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজের জন্য অসাধারণ সেবা করে যাচ্ছিলেন। আমি মনে করেছি, তাঁর কাজটি স্বীকৃতির যোগ্য।”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর, গভর্নর-জেনারেলের অফিসের একজন গবেষক প্রার্থীর সম্পর্কে দেওয়া তথ্য যাচাই করেন। মনোনয়ন ফর্মে মনোনয়নদাতাকে কিছু রেফারি (সুপারিশকারী ব্যক্তি) উল্লেখ করতে হয়, যারা প্রার্থীর অবদান এবং কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন। এরপর গবেষকরা অতিরিক্ত রেফারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা আরও তথ্য প্রদান করতে পারেন।

রব আয়লিং জানান, “এটি একটি কঠোর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রক্রিয়া, যার পুরোটা সম্পন্ন হতে ১৮ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত সময় লাগে।”

এই সম্মাননা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোপনীয়তা। প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, প্রত্যেকটি ধাপই সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়, এমনকি যাঁরা সম্মাননা পান, তাদের পরিচয়ও গোপন থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here