পুরনো ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে বার্সেলোনায় নতুন যাত্রা শুরু করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড। এক মৌসুমের জন্য ধারে কাতালান ক্লাবে যোগ দিয়েছেন তিনি, যেখানে ২০২৬ সালে ৩ কোটি ৩০ লাখ ইউরোয় তাকে স্থায়ীভাবে কেনার বিকল্প রাখছে বার্সা।
বার্সেলোনার ইতিহাসে গ্যারি লিনেকারের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে রাশফোর্ডের নাম যুক্ত হলো কাতালানদের স্কোয়াডে। এই ঐতিহাসিক সুযোগকে ঘিরে আবেগাপ্লুত রাশফোর্ড জানিয়েছেন, “বার্সেলোনা এমন এক ক্লাব, যেখানে মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়। এখানে বড় ট্রফি জেতা যায়। আমি এখানে নিজেকে বাড়ির মতো অনুভব করছি।”
২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ক্লাবের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, “হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে আমার আলোচনাগুলো খুবই ইতিবাচক ছিল। তার অধীনে তরুণ একটি দল দুর্দান্তভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই ক্লাবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাকে টেনেছে। আমি বার্সার ফুটবল দর্শন শিখতে মুখিয়ে আছি।”
বার্সেলোনা রাশফোর্ডের সম্পূর্ণ বেতন দেবে, তবে তিনি নিজে থেকে কিছুটা বেতন কম নিতে রাজি হয়েছেন। অন্যদিকে ইউনাইটেড তার বেতন তালিকা থেকে মুক্ত হয়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছে। ইতোমধ্যেই নতুন সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন রাশফোর্ড, এবং বৃহস্পতিবার জাপান সফরের দলে তার থাকা প্রায় নিশ্চিত।
রাশফোর্ড ২০১৬ সালে ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেকের পর ৪২৬ ম্যাচে ১৩৮ গোল করেছেন, জিতেছেন পাঁচটি বড় ট্রফি এবং ক্লাবটির সর্বকালের গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন ১৫তম স্থানে। তবে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে তার সময়টা সহজ ছিল না। রুবেন আমোরিম তাকে ম্যানচেস্টার ডার্বির স্কোয়াড থেকে বাদ দেন, যার পর থেকেই মাঠের বাইরে রাশফোর্ড।
এরপর জানুয়ারিতে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় যান তিনি। যদিও সেখান থেকে ইংল্যান্ড দলে ফিরেছিলেন, ইউনাইটেডে তার পুরনো জায়গা আর ফিরে আসেনি। পাঁচজন ‘ট্রান্সফার তালিকাভুক্ত’ খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন রাশফোর্ড, যাদের আলাদা অনুশীলনে রাখা হয়েছিল।
আসলে রাশফোর্ডের পারফরম্যান্স পতন শুরু হয় আরও আগেই। ২০২৩ সালে ইউনাইটেডের সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তি করলেও, সেই মৌসুমে মাত্র ৮ গোল করতে পেরেছেন ৪৩ ম্যাচে। আগের মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ছিল ৩০। পারফরম্যান্সে অবনতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাকে তিনবার শাস্তিও পেতে হয়।
তবে ক্লাবটির প্রতি কৃতজ্ঞ রাশফোর্ড বলেন, “আমি ইউনাইটেডের প্রতি কৃতজ্ঞ। এটা আমার জীবনের বিশাল অংশ ছিল। আমি কোনো নেতিবাচক কিছু বলতে চাই না।” নতুন ক্লাব বার্সেলোনাকে ঘিরে তার লক্ষ্যও স্পষ্ট—“আমি সবচেয়ে বড় ট্রফিগুলো জিততে চাই। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা আমার স্বপ্ন, এবং বার্সেলোনা সেই স্বপ্নপূরণের উপযুক্ত জায়গা।”










