Home বাংলাদেশ National সময়সীমা নির্ধারণ করে আমরণ অনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সময়সীমা নির্ধারণ করে আমরণ অনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

189
0

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন কাঠামো ও পদোন্নতির দাবিতে আজ শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশ করেছেন। তাঁরা শুরুর পদে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবির পক্ষে এই কর্মসূচি পালন করেন।

মহাসমাবেশ চলাকালে শিক্ষক নেতারা পুলিশের সহায়তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন ‘যমুনা’য় গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। তবে তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাননি। এ কারণে শিক্ষকরা আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দাবি পূরণ ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যথায় ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেই আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

এই কর্মসূচির আয়োজন করে ছয়টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো শিক্ষক এই সমাবেশে যোগ দেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেল চারটার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষক কর্মরত। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১ থেকে উন্নীত করে ১০তম গ্রেড করা হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে ‘শিক্ষক’ পদ চালুর প্রস্তাব থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এ অবস্থায় সহকারী শিক্ষকরা সংশোধিত তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন:

  1. সহকারী শিক্ষকদের শুরুর পদে ১১তম গ্রেড নির্ধারণ
  2. প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ
  3. ১০ বছর ও ১৬ বছর মেয়াদে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তিতে জটিলতা নিরসন

মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষক নেতা মুনির হোসেন, মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ ও শাহিনুর আল আমিনসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সংহতি জানান। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকার এ দাবি না মানলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়ন করবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া জানান, শিক্ষকরা আইনি সহায়তা চাইলে তিনি তাঁদের পক্ষে লড়বেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, যে দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়, সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানে আরও সংহতি জানান আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের এ বি এম ফজলুল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জালালুদ্দীন আহমদ এবং বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here