Home বিশ্ব ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্তে রাশিয়ায় দূত পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্তে রাশিয়ায় দূত পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

102
0

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বাকি থাকা গুরুত্বপূর্ণ মতভেদ দূর করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ইউক্রেন জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপিত পরিকল্পনার ওপর তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সাধারণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে যে ২৮ দফা প্রস্তাব দেয়, সেটিকেই আলোচনার ভিত্তি ধরে জেনেভায় ছুটির দিনে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ওই প্রাথমিক খসড়াটি দুই পক্ষের অতিরিক্ত মতামত যোগ করে আরও পরিমার্জন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, তাঁর বিশেষ দূত উইটকফ পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যাবেন, এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমান্তরাল আলোচনা পরিচালনা করবেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ জানিয়েছেন, ড্রিসকলের কিয়েভ সফর এই সপ্তাহেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে ক্রেমলিন দাবি করেছে, সংশোধিত নতুন খসড়া সম্পর্কে রাশিয়াকে এখনো অবহিত করা হয়নি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে তা গ্রহণে রাশিয়ার আপত্তি থাকতে পারে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মস্কো কোনো সংশোধিত কপি পায়নি এবং ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টায় ‘বাধা দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা রাশিয়ার এসব উদ্বেগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল সোমবার ও মঙ্গলবার আবুধাবিতে রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এখনো যেসব মূল বিষয়ে গুরুতর মতভেদ রয়েছে—যেমন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, এবং দেশের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ—সেগুলোর বেশ কয়েকটি নতুন খসড়াতেও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

জেলেনস্কি মঙ্গলবার জানান, এসব ‘সংবেদনশীল ইস্যু’ নিয়ে সরাসরি আলোচনার জন্য তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত এবং আশা করছেন, চলতি মাসের মধ্যেই বৈঠকটি আয়োজন করা যাবে। তিনি মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আরও সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। অনেক কিছুই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে, কারণ রাশিয়া মার্কিন শক্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।”

হোয়াইট হাউস সম্ভাব্য ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কাছাকাছি হলে তিনি পুতিন ও জেলেনস্কি—দুই নেতার সঙ্গেই দেখা করার জন্য প্রস্তুত।

অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতাদের মনোভাব তুলনামূলকভাবে সতর্ক। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তিনি যুদ্ধবিরতির কোনো সদিচ্ছা দেখতে পাচ্ছেন না। যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিটের মতে, “পথ অনেক দীর্ঘ ও সামনে কঠিন সময় রয়েছে।”

ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ মঙ্গলবার ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে, যা পরিচালনা করেন ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টার্মার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও যোগ দেন। বৈঠকে নেতারা একটি যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনে সম্মত হন, যাতে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হলে ইউক্রেনকে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দ্রুত কার্যকর করা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সোমবার পরিষ্কার করে বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো পুতিনের দাবি: যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করা সব ভূখণ্ডকে আইনগতভাবে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। বর্তমানে রাশিয়া ক্রিমিয়া ছাড়াও দোনবাসের বৃহৎ অংশ এবং খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার বড় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

এদিকে শান্তি আলোচনা চললেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জাপোরিঝঝিয়ায় হামলার খবর নিশ্চিত করেছে দুই দেশই। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, সেখানে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। অপরদিকে রাশিয়া-নিযুক্ত গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি বলেছেন, কিয়েভ তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here