দেশে লাগামহীনভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকের ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের ওপর গিয়ে পড়ে এবং সুদের হার আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আবুল কাসেম খান বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকগুলোকে অনাদায়ী ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। এতে প্রশাসনিক ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে ঋণের সুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এতে পুরোনো বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সুদের চাপ বাড়তে থাকলে ব্যবসায়ীরা ঋণ নেওয়া কমিয়ে দেবেন, যা বিনিয়োগ, উৎপাদনসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনিতেই দুর্বল অবস্থার অর্থনীতি আরও ঝুঁকিতে পড়বে, আর খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রে ঋণ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিশোধ না করে খেলাপি করা হয়। ফলে ব্যাংকের টাকা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এবং এই অর্থ পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগবে তা নিশ্চিত নয়। সব ঋণ আদায় করা সম্ভব কি না, সেটাও প্রশ্নের মুখে। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।










