ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকায় একটি প্রতীকী গণভোট বা ‘মক ভোট’-এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলে। জানা গেছে, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ৫০০ জন ভোটার এই প্রতীকী ভোটে অংশ নিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই প্রকৃত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জনমত যাচাই করা হবে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিষয়ে, যা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন ছিল:
“আপনি কি ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সেখানে উল্লিখিত নিম্নোক্ত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে একমত?” (হ্যাঁ/না)
এই প্রস্তাবগুলো হচ্ছে—
(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘জুলাই সনদে’ নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে গঠিত হবে।
(খ) দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ: ভবিষ্যতের জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন আবশ্যক হবে।
(গ) ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য বাস্তবায়ন: নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা—এই ৩০টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক হবে।
(ঘ) অন্যান্য সংস্কার: ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ উল্লেখিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজকের মক ভোটিং আয়োজন করেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাস্তব অনুশীলনের উদ্দেশ্যে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ প্রতীকী ভোট চলে। যেহেতু নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হবে, তাই পুরো প্রক্রিয়াটি দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আগেভাগে অভিজ্ঞতা নেওয়াই এর লক্ষ্য। এই মক ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—কেন্দ্র সংখ্যা বাড়াতে হবে কিনা, কোথাও কোনো সমন্বয় প্রয়োজন কিনা, ভোটকক্ষ বা জনবল বাড়ানো লাগবে কি না ইত্যাদি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মক ভোটিংয়ে সিনিয়র নাগরিক, বস্তিবাসী, শিক্ষার্থী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, প্রতিবন্ধী এবং নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) অংশগ্রহণকারীরা অংশ নিচ্ছেন।










