অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি লেখেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে তাঁর নিরাপত্তায় এসএসএফ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।”
চিকিৎসায় যুক্ত হল চীনের মেডিকেল টিম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য চীনের একটি পাঁচ সদস্যের মেডিকেল দল এভারকেয়ার হাসপাতালে এসেছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় তারা হাসপাতালে পৌঁছায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি এই চিকিৎসক দল দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। মেডিকেল বোর্ডের মতে, তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
নরেন্দ্র মোদির শুভকামনা ও সহায়তার আশ্বাস
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জেনে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রয়োজন হলে ভারত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ
খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা পরিচালনা করছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড। বোর্ডে রয়েছেন দেশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিক এবং খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান।
লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং চিকিৎসা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।










