ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা ফিফা বহুদিন ধরে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখলেও শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সংস্থার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তিনি রিপাবলিকান নেতার প্রতি নিজের সমর্থন আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন।—খবর আল জাজিরা।
সমালোচনা ও বিতর্ক
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরেকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় পরে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ও গাজায় ইসরায়েলকে বিশ্ব ফুটবল থেকে স্থগিত করার দাবির অন্যতম মুখপাত্র ক্রেগ মোখিবার এটিকে ‘গভীরভাবে লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, গত দুই বছরে ফিলিস্তিনে গণহত্যা নিয়ে ফিফার কার্যক্রম যথেষ্ট ছিল না। এখন ইনফান্তিনো ও তাঁর সহযোগীরা ট্রাম্পের কাছ থেকে সুবিধা পেতে নতুন এক ‘শান্তি পুরস্কার’ পর্যন্ত তৈরি করেছেন।
সমালোচকদের মতে, এই পুরস্কার ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের ‘কলঙ্কিত রেকর্ড’, ক্যারিবীয় সাগরে প্রাণঘাতী হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আড়াল করার প্রচেষ্টা।
ইনফান্তিনোর বক্তব্য
পুরস্কার প্রদানের সময় ইনফান্তিনো ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানান। এর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রশ্ন অমীমাংসিত রেখেই ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
ইনফান্তিনো বলেন,
‘আমরা নেতার মধ্যে এটাই দেখতে চাই— এমন কেউ, যিনি মানুষের কথা ভাবেন। আমরা নিরাপদ পৃথিবীতে, নিরাপদ পরিবেশে বাস করতে চাই। আমরা ঐক্য চাই… মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনার কর্মকাণ্ডের জন্য আপনি নিঃসন্দেহে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।’
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও ট্রাম্প এ বছর তা পাননি। ফিফার এই পুরস্কারকে তিনি তাঁর প্রাপ্ত ‘মহান সম্মান’গুলোর একটি বলে মন্তব্য করেন। দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন।
বক্তৃতায় তিনি ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরি জো বাইডেনের সমালোচনা করে বলেন,
‘এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো অবস্থায় ছিল না, আর এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি আমরা বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির দেশ।’
ইনফান্তিনো পূর্বে ফুটবলে বিভাজন সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, কয়েক দিন আগেই যিনি সোমালিয়ার মানুষকে ‘আবর্জনা’ বলেছেন, তাঁকে শান্তি পুরস্কার প্রদান করা সেই নীতির পরিপন্থী।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মন্তব্য করেছে,
‘ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে পারেননি, তাই ফিফা তাঁর জন্য একটি নতুন পুরস্কার বানিয়ে দিল।’










